সেচযন্ত্রের জ্বালানি ডিজেল ও বিদ্যুতের দাম বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি। এতে বোরো ধান চাষে খরচ বেড়েছে। এবার গাইবান্ধায় বোরো ধান চাষে প্রতি বিঘা জমিতে ৫ হাজার টাকা বাড়তি খরচ হচ্ছে বলে জানান কৃষকরা। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে গাইবান্ধায় বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ১৫ হেক্টর জমিতে। সরেজমিন গাইবান্ধা সদর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে দেখা যায়, কৃষকরা বোরো ধানের চারা রোপণ করতে ব্যস্ত। আবার কেউ খেত থেকে আলু তুলে বোরো ধান রোপণের প্রস্তুতিও নিচ্ছেন। এ সময় শ্রমিকসংকটও রয়েছে, মজুরিও বেশি।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বোরো মৌসুমে এক বিঘা (৩৩ শতাংশ) জমিতে বোরো উৎপাদনের খরচ ছিল প্রায় ১২ হাজার ৫০০ টাকা। আর এ বছর তা দাঁড়াবে ১৮ হাজারেরও বেশি। গত বোরো মৌসুমে প্রতি বিঘা জমিতে সেচের খরচ ছিল ১ হাজার ২০০ টাকা, এ বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬০০ টাকায়। প্রতি কেজি বীজ ছিল ২০০ টাকা, এবার তা হয়েছে ৩৫০ টাকা। এ ছাড়া সার খরচ ২ হাজার থেকে বেড়ে হয়েছে ৩ হাজার ৫০০ টাকা। একই সঙ্গে কীটনাশক ৬০০ থেকে বেড়ে ১ হাজার টাকা, ধান রোপণের মজুরি ৬০০ থেকে বেড়ে ১ হাজার হয়েছে। এ ছাড়া আরও অনেক খরচ রয়েছে।
গাইবান্ধা সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের নশরৎপুর এলাকার বাসিন্দা বাবলা মিয়া বলেন, ডিজেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ায় এবার সেচ খরচ বেশি পড়ছে। এ ছাড়া বীজসহ প্রতিটি জিনিসের দাম বেড়ে গেছে। উপজেলার ঘাগোয়া ইউনিয়নের কাটিহাটা গ্রামের মজিবর রহমান বলেন, এ বছর প্রায় ছয় বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছি। গত বছরের তুলনায় এ বছর বোরো ধান আবাদে খরচ অনেক বেশি পড়ছে। গত বছর প্রতি ঘণ্টায় সেচের পানি নিতে খরচ পড়ত ১০০-১১০ টাকা। এ বছর তা বেড়ে হয়েছে ঘণ্টাপ্রতি ১৫০-১৬০ টাকা। এ ছাড়া সার কিনতে হচ্ছে বাড়তি দামে, কীটনাশক ও বীজের দামও বেড়েছে।
দশানি এলাকার কৃষক নূর আক্তার হোসেন বলেন, মজুরি বেশি তাই পরিবারের মা-স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়েই পরিচর্যা করছি। তবুও খরচ বেশি। একই কথা বললেন ওই এলাকার জাহিদুল ইসলাম সরকার। তিনি একাই নিড়ানি দিচ্ছেন।
একই উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের হাটলক্ষ্মীপুর এলাকার বাসিন্দা কামাল হোসেন এ বছর পাঁচ বিঘা জমিতে বোরো ধান রোপণ করেছেন। তিনি বলেন, বোরো ধান আবাদে প্রতিটি জিনিসের দাম বেড়েছে। গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপপরিচালক খোরশেদ আলম বলেন, বোরো চাষে অতিরিক্ত সেচ লাগে। খরচ কমাতে কৃষকদের পরিমিত সেচ এবং নিয়ম মেনে সার ও কীটনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।