নদী ভাঙন, অপরিকল্পিত বসতি, তিন ফসলি জমিতে ইটভাটা, কলকারখানা নির্মাণসহ নানা কারণে মানিকগঞ্জে কমছে কৃষিজমি। এভাবে কৃষিজমি কমতে থাকলে একসময় কৃষক বেকার হয়ে পড়বে, দেখা দেবে খাদ্যসংকট- এমন আশঙ্কা করছে সচেতন মহল। ১ হাজার ৩৭৯ বর্গকিলোমিটার আয়তনের মানিকগঞ্জে কৃষিজমি ৯৭ লাখ ৭৯ হাজার ২৯৮ একর। বিভিন্ন কারণে প্রতি দুই বছরে ১ শতাংশ হারে কৃষিজমি কমে যাচ্ছে। ঘিওর উপজেলার পেঁচারকান্দার মোয়াজ্জেম আলী বলেন, কালীগঙ্গা নদীতে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটায় ভাঙনে কৃষিজমি বিলীন হচ্ছে। যেসব জমিতে গম, কলাই, সরিষাসহ বিভিন্ন সবজি চাষাবাদ হতো সেগুলো এখন পতিত। সদর উপজেলার বেতিলা এলাকার সাহাদাত হোসেন বলেন, বসতি এলাকায় ইটভাটা করা হয়েছে। ভাটায় জমির ওপরের অংশ কেটে নেওয়া হচ্ছে। ফলে জমি পরিণত হচ্ছে ডোবা বা নালায়। মাটি কাটায় জড়িতদের কিছু বলতে গেলে উল্টো ঝামেলায় পড়তে হয়। আবার অনেক জমিতে চাষ হচ্ছে তামাক। যা কৃষিজমি ধ্বংসের সঙ্গে পরিবেশও নষ্ট করছে। সদর উপজেলার গজারিয়া চকে অপরিকল্পিতভাবে ময়লা ফেলায় অনাবাদি থাকে শত শত বিঘা তিন ফসলি জমি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. রবিআ নুর আহমেদ বলেন, বিভিন্নভাবে মানিকগঞ্জে প্রতি দুই বছরে ১ শতাংশ হারে কৃষিজমি কমছে। প্রতিটি সভায় কৃষিজমি রক্ষার দাবি জানানো হয়। কোনো সুফল হচ্ছে না। কৃষিজমি রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার বলে মনে করেন তিনি।