পাবনার ফরিদপুর পাউবোর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের কোল ঘেঁষে গভীর গর্ত করে মাটি কেটে ভাটায় বিক্রি করছে একটি অসাধু চক্র। এতে হুমকির মুখে পড়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বাঁধ। এ বাঁধ ভেঙে গেলে পানিতে ডুবে চার উপজেলার লাখ লাখ কৃষকের ফসলহানির শঙ্কা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানায়, জেলার ফরিদপুর উপজেলার এ এলাকাটি কৃষিপ্রধান। মাঠের পর মাঠ বিভিন্ন ফসল আবাদ হয়। আগে বর্ষা মৌসুমে পানি বাড়লেই এসব ফসল ডুবে যেত। ফলে ১৯৮৩ সালে পাউবো কৃষকের ফসল রক্ষায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। সে অনুযায়ী সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী থেকে ভাঙ্গুড়া হয়ে রাজশাহীর চারঘাট পর্যন্ত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এর এক দিকের মাটি খনন করে অন্য দিকে তৈরি হয় বাঁধটি। এতে বাঁধের পাশ দিয়ে লম্বা খাল তৈরি হয়। স্থানীয়রা জানান, বেরহাউলিয়া ইউনিয়নের মধ্যে এ বাঁধের পাশে পাউবোর অধীনে ১৩টিরও বেশি খাল রয়েছে। আগে এসব খালে স্থানীয় দরিদ্র মানুষ মাছ চাষ করত। তবে এখন তা প্রভাবশালীদের দখলে চলে গেছে। এসব খাল পানিশূন্য হয়ে পড়ায় প্রভাবশালী চক্র বাঁধের নিচ থেকে এস্কেভেটর (ভেকু) দিয়ে মাটি কেটে অর্ধশত ড্রামট্রাকের মাধ্যমে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করছেন। স্থানীয়রা জানান, বিশাল খাল তৈরি হওয়ায় বাঁধটি হুমকির মুখে পড়েছে। অতিবৃষ্টি বা বন্যা হলে বাঁধটি ভেঙে যেতে পারে। তাহলে পানিতে ডুবে লাখ লাখ ফসলহানির আশঙ্কা রয়েছে। ওসি হাসমাত জামান বলেন, মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রয়ের বিষয়টি শুনেছি; ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সানাউর মোরশেদ বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা থেকে মাটি কাটছে; এটা আমাদের কিছু করার নেই। পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম বলেন, কোনো অবস্থায়ই বাঁধের পাশ থেকে মাটি কাটা যাবে না।