খুলনা-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. আক্তারুজ্জামান বাবুর ঢাকার মোহাম্মদপুরের ২ একর জমি, খুলনায় দুইটি বাড়ি ও কেসিসি মার্কেটে ১৩০ বর্গফুটের তিনটি দোকানসহ মোট ৪ দশমিক ৩৬ বিঘা বা ১৩ বিঘা জমি জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়াও তার ১৪টি ব্যাংক হিসাবে থাকা ৩১ লাখ ৮ হাজার ৮৭৩ টাকা অবরুদ্ধের আদেশ দেওয়া হয়েছে। বাড়ি, দোকান ও জমির দলিল মূল্য ধরা হয়েছে ৭ কোটি ৩২ লাখ ৬ হাজার ৮৭০ টাকা। গতকাল দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ জাকির হোসেন গালিবের আদালত এ আদেশ দেন। দুদকের পক্ষে উপপরিচালক জয়নাল আবেদীন জব্দ ও অবরুদ্ধের আবেদন করেন। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম এসব তথ্য জানিয়েছেন।
জব্দ ও অবরুদ্ধের আবেদনে বলা হয়েছে, মো. আক্তারুজ্জামান বাবুর বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো অনুসন্ধানপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়েছে। নথি পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী আক্তারুজ্জামান বাবুর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজ নামে ঠিকাদারি ব্যবসাসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎপূর্বক নিজ ও পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ করা হয়েছে।
অনুসন্ধানকালে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যাচ্ছে যে, অভিযোগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাদের মালিকানাধীন ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চেষ্টা করছেন, যা করতে পারলে অনুসন্ধানের ধারাবাহিকতায় মামলা রুজু, আদালতে চার্জশিট দাখিল, আদালত বিচার শেষে সাজার অংশ হিসেবে অপরাধলব্ধ আয় থেকে অর্জিত সম্পত্তি সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্তকরণসহ সব উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হবে। সুষ্ঠু অনুসন্ধান ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে এ স্থাবর সম্পত্তি জব্দ ও অস্থাবর সম্পত্তি অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন।