পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে রাজধানী ঢাকায় বাড়ছে মৌসুমি ঈদবাজার। শহরের বিভিন্ন এলাকায় সড়কের দুই পাশে বসা এসব ঈদবাজারে কাপড় থেকে প্রসাধনী জুয়েলারি নানা রকম পণ্য পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এসব বাজারে ভ্রাম্যমাণ ক্রেতাদের ভিড় লেগেই থাকে। গতকাল রাজধানীর মতিঝিল, মৌচাক, মালিবাগ, বাড্ডা, নতুনবাজারসহ রাজধানীর সড়কের এসব অস্থায়ী দোকানে ভিড় দেখা যায় ক্রেতাদের। চাহিদামতো ক্রেতাদের আগমন ঘটায় বিক্রেতারাও খুশি। বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিভিন্ন দোকানে ক্ষেত্রবিশেষে সর্বনিম্ন ৫ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রিও বাড়তে থাকবে। বাড্ডা হোসেন মার্কেটের উল্টোদিকের রাস্তায় নানা রকম পসরা সাজিয়ে বসেছেন ইবাদত মিয়া। তিনি জানান, সারা বছর ব্যবসা করেন না, মৌসুম অনুযায়ী কাপড়ের ব্যবসা করেন। তিনি ঈদ উপলক্ষে প্রায় তিন মাস আগে এখানে ভ্রাম্যমাণ দোকান বসান। তিনি প্রতিদিন পাঁচ থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা বেচাকেনা করেন। এবার ঈদের মৌসুমেও ভালো বেচাকেনার প্রত্যাশা করছেন।
পাশেই রবিন নামে এক কিশোর বসে ছিল ছোটদের নানা রকম গেঞ্জি, জামা, প্যান্ট, পাঞ্জাবি নিয়ে। তার মতে, কষ্ট করে টাকা জমিয়ে সে এ ব্যবসা শুরু করেছে। বাবা নেই ছোট থেকেই। মা নিয়ে সংসার ভালো চলছে। রবিন জানায়, গত ঈদে আমি এমন একটি রাস্তার দোকানে তিনবেলা খাওয়ার বিনিময়ে কাজ করতাম। পড়ে মার জমানো টাকায় এ ব্যবসা শুরু করি। এবার ঈদে আশা করছি লাভের টাকাটা দিয়ে মাসহ আত্মীয়স্বজন মিলে ঈদ করব।
বেসরকারি চাকরি করেন সিদ্দিক হোসেন। তিনি চাকরি সূত্রে মালিবাগ আসেন প্রতিদিন। তিনি বলেন, আজ শপিং মালিবাগে করতে এসেছি অর্ধদিবস ছুটি নিয়ে। শেষের দিকে দাম অনেক বেড়ে যায়। চাহিদাও বেড়ে যায়। তাই আমি সমসময় রোজার শুরুতেই পরিবারের জন্য জামাকাপড় কিনে থাকি।
নতুনবাজারের ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী মো. ইয়াকুব আলী জানান, তার গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের মিঠামইন। তিনি কয়েক সপ্তাহ আগে ২০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে ফুটপাতে দোকান দিয়েছেন। বছরের এ সময়টা তিনি বন্ধুর সঙ্গে ঢাকায় চলে আসেন। ঈদের ব্যবসা শেষ করে আবার গ্রামে চলে যান।