আলু চাষীদের বাঁচানো এবং হিমাগারের ভাড়া কমানোর দাবিতে রাস্তায় আলু ফেলে আলুচাষীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। বুধবার সকালে রংপুর প্রেসক্লাব চত্বরে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
রংপুর আলু চাষী সংগ্রাম কমিটি জেলা আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন বাবলুর সভাপতিত্বে এসময় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ক্ষেত মজুর ও কৃষক সংগঠনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আহসানুল আরেফিন তিতু, আলু চাষী জমশেদ আলী, রেজওয়ান শাহ, তছলিম উদ্দিন, রানা মিয়া, লক্ষ্মীকান্ত রায়, মইনুল ইসলাম, নাসিরউদ্দিন প্রমুখ।
নেতৃবৃন্দ বলেন, বিশ্বব্যাপী আলুর চাহিদা ব্যাপক। উত্তরবঙ্গ বিশেষ করে রংপুরের জমি এবং আবহাওয়া আলু চাষের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। ফলে এই অঞ্চলের কৃষকরা প্রচুর আলু উৎপাদন করে। কিন্তু আলুর বাম্পার ফলন হলেও কৃষক লাভের মুখ দেখতে পারে না।
আলু যেহেতু পঁচনশীল সবজি, তাই কৃষক বেশি দিন আলু ঘরে রাখতে পারে না। দ্রুত আলু বিক্রি করতে হয়। এই সময়ে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট আলুর বাজারে ধস নামিয়ে দেয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই কৃষক কোল্ডস্টোরে আলু রাখার চেষ্টা করেন। কিন্তু আলুর সিন্ডিকেট ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন কোম্পানি স্টোর মালিকদের সঙ্গে যোগসাজশ করে স্টোরের বেশির ভাগ জায়গা আগেই বুকিং করে রাখে। ফলে কৃষকরা কোল্ডস্টোরেও জায়গা পায় না।
এভাবে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের সঙ্গে কোল্ডস্টোর মালিকদের সিন্ডিকেট যুক্ত হয়ে কৃষককে পানির দরে আলু বিক্রি করতে বাধ্য করে। এবারেও দাম কম থাকার কারণে কৃষক জমিতে আলু বেশি দিন রেখে পাকিয়ে বীজ করার চেষ্টা করছে। কিন্তু স্টোরের বেশিরভাগ জায়গা খাবার আলুর জন্য বুকিং থাকায় বীজ আলুও কৃষকরা রাখতে পারবে না। ফলে আগামী বছর বীজের ভীষণ সংকট তৈরি হবে। প্রশাসনের তদারকির অভাবে কোল্ড মালিকরা রাতারাতি আলুর ভাড়া বৃদ্ধি করেছে।
বিডি প্রতিদিন/আরাফাত