সাম্প্রতিক সময়ে সারা দেশব্যাপী ধর্ষণের মাত্রা যে হারে বৃদ্ধি পেয়েছে তা শুধু উদ্বেগজনক নয় বরং এটা নারী উন্নয়ন ও নারীর অগ্রযাত্রার পথে বড় অন্তরায়। পূর্বের নারী ও শিশু ধর্ষণের যে ঘটনাগুলো ঘটেছে সেগুলোর সত্যিকারের ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করা সময়ের দাবি। এটা নিশ্চিত করা গেলে চলমান ধর্ষণের ঘটনাগুলো না ঘটার সম্ভাবনা খুব বেশি।
আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০২৫ উদযাপন উপলক্ষে ইপসা কর্তৃক আয়োজিত ‘নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা সমূহের ন্যায়বিচারঃ প্রত্যাশা ও করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
ইপসা’র প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ আরিফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. মফিজুল হক ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি এস. এম. নাজের হোসাইন। সভায় ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন ইপসা’র প্রোগ্রাম অফিসার সেতারা রুদ্র।
ইপসা’র উপ পরিচালক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় ধারণা পত্রের ওপর বক্তব্য দেন ব্রাইট বাংলাদেশ ফোরাম-বিবিএফ’র প্রধান নির্বাহী উৎপল বড়ুয়া, ব্র্যাক’র বিডিসি এনামুল হাছান, স্বপ্নীল ব্রাইট ফাউন্ডেশন প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ আলী শিকদার, অপরাজেয় বাংলাদেশ’র চট্টগ্রামের প্রধান সমন্বয়কারী জিনাত আরা বেগম, সংশপ্তক’র লিটন চৌধুরী, ইপসা’র পরিচালক (কেএমফরডি) মোহাম্মদ শাহজাহান, পরিচালক (সমাজ উন্নয়ন) নাছিম বানু শ্যামলী এবং ইপসা’র সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আলী শাহীন।
প্রধান অতিথি অ্যাডভোকেট মো. মফিজুল হক ভূঁইয়া বলেন, সকল উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে একসাথে হয়ে একটি একটি বিষয় নিয়ে কাজ করতে হবে। এক সাথে সব সংস্কার না করে পৃথক বিষয় নিয়ে কাজ করা শুরু করলে ধীরে ধীরে বদলাবে সবকিছু।
তিনি বলেন, ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে। ধর্ষণ ও ধর্ষককে সামাজিকভাবে ঘৃণা করতে হবে এবং এখানে পারিবারিক ও সামাজিক শিক্ষা খুব বেশী জরুরি।
সভায় বক্তারা বলেন, ২০১৮ সালের চাঞ্চল্যকর শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল নেত্রকোনায় চতূর্থ শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যা, একই বছর ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের দিন নোয়াখালীর সুবর্ণচরে স্বামী-সন্তানদের বেঁধে রেখে নারীকে ধর্ষণ, ২০১৯ সালে চট্টগ্রামের চান্দগাঁও আবাসিক এলাকায় গৃহকর্মী শিশু রাত্রীকে (১৪) গৃহে আটক রেখে ধর্ষন এবং একই বছর হাটহাজারীর চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্রী তুহিনকে (১৩) ধর্ষণ করে খুন ও লাশ গুমের ঘটনাগুলো ঘটেছিল এবং যেগুলোর ন্যায় বিচার পাওয়ার আশায় এখনও ভুক্তভোগী ও সাধারণ জনগণ আন্দোলন করছে।
এ মামলাগুলোর ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা হলে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া আছিয়া (৮) ও নিলুফা (১১) লোমহর্ষক ধর্ষণসহ অন্যান্য ধর্ষণ ঘটনাগুলো আর ঘটতো না বলে অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার কর্মীরা মনে করছেন।
বিডি প্রতিদিন/নাজিম