শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি) প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে অনুষ্ঠিত এ ইফতার আয়োজনে প্রথম নোটিশে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আমন্ত্রণ জানানো হলেও পরবর্তী নোটিশে তাদের বাদ দেওয়া হয়, যা বিতর্কের জন্ম দেয়।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় মাঠে নিজ উদ্যোগে ইফতার আয়োজন করেন। শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্ত বিভেদ সৃষ্টির শামিল এবং এটি অযৌক্তিক। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টিকে একটি ভুল বোঝাবুঝি বলে দাবি করেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বুধবার (১৭ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার শেখ রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত এক নোটিশে, শেকৃবি প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে 'শেকৃবি পরিবার'-এর সকলের জন্যে অংশগ্রহণের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে একইদিনে অপর নোটিশে ইফতার ও দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণের জন্যে 'শেকৃবির সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকবৃন্দ'-কে অংশগ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল সংগঠন থেকে নির্দিষ্ট সংখ্যক শিক্ষার্থীকে দাওয়াত দেওয়া হয়।
এদিকে, ইফতার মাহফিলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বাদ দেওয়ায় তীব্র সমালোচনা দেখা দেয়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের বাদ দেওয়ার প্রতিবাদ স্বরুপ প্রায় সকল সংগঠন ইফতার বয়কট করেন এবং নিজেরা টাকা সংগ্রহ করে মাঠেই ইফতার করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ওঠে সমালোচনার ঝড়।
বিকেলে শেকৃবি বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তৌহিদ আহমেদ আশিক এক ফেসবুক পোস্টে জানান, আমি জুলাই আন্দোলন এবং পরবর্তী সময়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব করেছি। ক্যাম্পাস এবং ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের কাছে আমি দায়বদ্ধ। তাই তাদের বাদ দিয়ে আমি কিছু চিন্তা করছি না। ডিবেটিং সোসাইটির সেক্রেটারি হিসেবে আমাকে দাওয়াত করা হয়েছে, ব্যক্তিগত জায়গা থেকে আমি এটা বাদ দিচ্ছি। তিনি আরও বলেন, ২০ মার্চ সাধারণ শিক্ষার্থীরা সবাই আমরা নিজেদের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় মাঠে আমরা ইফতার করতে পারি, সেক্ষেত্রে সবাই ৫০ টাকা নিয়ে বিকাল ৫ ঘটিকার সময় কেন্দ্রীয় মাঠে উপস্থিত হবেন।
এবিষয়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শেকৃবি আহ্বায়ক মো. আসাদুল্লাহ (নাইম) বলেন, সকল শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্টতা না থাকায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন, (শেকৃবি) প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত আজকের অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিলে অংশগ্রহণ করবে না।
শেকৃবি শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আলমগির কবির বলেন, আমাদের ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দুইজনের দাওয়াত ছিল। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাওয়াত না দেওয়ায় আমরা দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করেছি। শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে আমরা ইফতার করেছি।
এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবুল বাশার বলেন, আজকের ইফতারিটা মূলত ঈদের দিন উপচার্যের বাংলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের নিয়ে যে সৌজন্য মূলক খাবার দাবার হয় সেই বাজেটের আয়োজন। ঈদের দিন সকল শিক্ষক কর্মচারী থাকে না তাই সকলকে নিয়ে যেন আয়োজন করা যায় সেলক্ষ্যে ইফতার আয়োজন। এখানে আয়োজক কমিটির প্রথম দিকে নোটিশ দিতে একটু ভুল হয়েছে যার কারনে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৫ হাজার আবাসিক শিক্ষার্থী রয়েছে তাদের নিয়ে এবং একই সাথে কর্মচারী-কর্মকর্তা, শিক্ষকদের নিয়ে আয়োজন করা দুরূহ ব্যাপার, বাজেটের ব্যাপারও রয়েছে।
বিডি প্রতিদিন/এএ