বাল্যবিবাহকে না, প্রতিরোধের শপথ ও বাল্যবিবাহমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন যশোরের মণিরামপুর সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। গতকাল সোমবার সকালে মণিরামপুর সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বসুন্ধরা শুভসংঘ মণিরামপুর উপজেলা শাখা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহ আমাদের সমাজে একটি বড় সমস্যা। এটি শুধু একজন কিশোরীর ভবিষ্যৎ নষ্ট করে না, বরং পুরো সমাজের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। শিক্ষার্থীরা যদি সচেতন হয়, তাহলে আমরা একটি সুন্দর ও উন্নত সমাজ গড়ে তুলতে পারব। বর্তমান আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের ক্ষেত্রে অন্যতম একটি বাধা হচ্ছে এই বাল্যবিবাহ। বাংলাদেশে বাল্যবিবাহের হার ৫৯ শতাংশ। বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বে চতুর্থ। আর সংখ্যার দিক দিয়ে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ভারতের পরে দ্বিতীয় অবস্থানে। এটা আমাদের দেশের জন্য সুখবর নয়।
তারা আরো বলেন, বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে অনেকগুলো কারণ রয়েছে; যেমন-অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, দরিদ্রতা ইত্যাদি। সাধারণত দরিদ্র পরিবার তাদের কন্যাসন্তানকে বোঝা হিসেবে বিবেচনা করে অল্প বয়সে অযোগ্য পাত্রের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। কারণ বাল্যবিবাহ মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। অল্প বয়সে বিবাহের কারণে অল্প বয়সেই মেয়েরা গর্ভবতী হয়ে যায়, যা তাদের জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ। এই অবস্থার উত্তরণের জন্য চাই সামাজিক সচেতনতা। কারণ সামাজিকভাবে প্রতিরোধ ছাড়া এটা নির্মূল সম্ভব না। আইন প্রণয়নের মাধ্যমে হয়তো বা এর হার কিছুটা কমানো যাবে, কিন্তু সমাজ থেকে পুরোপুরি নির্মূল করার জন্য আমাদের গ্রামে-গঞ্জে, পাড়ায়-মহল্লায়, শহরে প্রতিরোধ গড়তে হবে সামাজিকভাবে। এর জন্য তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।
বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, আমাদের প্রত্যেককে বাল্যবিবাহমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। আসুন আমরা সবাই মিলে এই সমাজ থেকে বাল্যবিবাহের মতো একটি সামাজিক ব্যাধিকে দূর করি এবং সুখী-সমৃদ্ধ স্বদেশ গড়ি।
বসুন্ধরা শুভসংঘের মণিরামপুর উপজেলা শাখার সভাপতি এস এম হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধান শিক্ষক এম এম তছির উদ্দিন, সিনিয়র শিক্ষক আব্দুর রউফ, শংকর কুমার মণ্ডল, নাজমুস শাহাদাৎ, জালাল উদ্দীন, ফরিদ উদ্দীন, ইকরামুল ইসলাম, ধীমান দাস, সুমন ঘোষ, অরণ্য ভানু মল্লিক, বর্ণালী মল্লিক প্রমুখ।
বিডি প্রতিদিন/নাজিম