আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় দিনাজপুরে এবছর আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে উৎপাদিত আলুর ন্যায্য মূল্য ও সংরক্ষণ নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন কৃষকরা। ফলন ভালো হলেও বাজারদর দ্রুত কমে যাওয়ায় কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না। গত বছরের তুলনায় এবার একই সময়ের মধ্যে আলুর বাজারমূল্য অর্ধেকে নেমে এসেছে, যা কৃষকদের লোকসানের মুখে ফেলেছে।
এদিকে বিভিন্ন স্থানীয় কোল্ড স্টোরেজে আলু সংরক্ষণ শুরু হলেও সংরক্ষণ খরচ বাড়ায় কৃষকদের জন্য তা বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কৃষকদের অভিযোগ, বীজ আলু প্রতি কেজি ১০০ টাকা দরে কিনতে হয়েছে, ফলে উৎপাদন খরচ বেড়েছে দ্বিগুণ। বর্তমানে প্রতি কেজি আলুর বাজারদর মাত্র ১৩-১৫ টাকা, ফলে প্রতি বিঘায় ২০-২৫ হাজার টাকা লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে।
অনেক কৃষক জরুরি প্রয়োজন মেটাতে মাঠ থেকেই প্রতি কেজি ১৩ টাকা দরে আলু বিক্রি করছেন, আবার কেউ কেউ বাড়িতে সংরক্ষণ করছেন। তবে বাজারদর কম থাকায় উৎপাদন খরচ উঠিয়ে আনাও কঠিন হয়ে পড়েছে। কৃষকরা দাবি জানিয়েছেন, সরকারিভাবে আলু ক্রয় ও হিমাগার ভাড়া কমানোর।
খানসামা উপজেলার আলু চাষি বুলবুল ইসলাম বলেন, "আলুর ফলন ভালো হলেও লোকসান ছাড়া আর কিছুই নেই। সব কিছুর দাম বাড়লেও আলুর দাম কমেছে। তার উপর হিমাগারের ভাড়া আরও বেড়েছে। এভাবে চললে আবাদ ছেড়ে দিতে হবে।"
আরেক চাষি ইউসুফ আলী বলেন, "আলুর বাজার এত খারাপ যে, খরচই উঠছে না, বরং ক্ষতির পরিমাণ বেশি। আমরা কৃষকরাই বারবার ক্ষতির মুখে পড়ি, কিন্তু আমাদের দিকেই কেউ নজর দেয় না।"
খানসামা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইয়াসমিন আক্তার জানান, "আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় এবছর উৎপাদন খরচ বেশি। খানসামায় ২,৮৬০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও তা ছাড়িয়ে গেছে।"
বিডি প্রতিদিন/আশিক