দুর্নীতির মামলায় শেষ পর্যন্ত নির্দোষ প্রমাণিত হলেন ফিফার সাবেক প্রেসিডেন্ট সেপ ব্লাটার ও উয়েফার সাবেক সভাপতি মিশেল প্লাতিনি।
মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) সুইজারল্যান্ডের একটি আদালত তাদের বিরুদ্ধে নতুন শাস্তির আপিল খারিজ করে দুর্নীতি, জালিয়াতি ও ঘুস কেলেঙ্কারির অভিযোগ থেকে ব্লাটার ও প্লাতিনিকে অব্যাহতি দিয়েছেন। ২০১১ সালে একটি কাজের পারিশ্রমিক হিসেবে ফিফার কাছ থেকে ১৮ লাখ ইউরো পেয়েছিলেন প্লাতিনি।
২০১৫ সালে এই লেনদেনকে ‘ঘুস’ সন্দেহে মামলা হয়, যার জের ধরে ফিফা সভাপতির পদ ছাড়তে বাধ্য হন ব্লাটার। ফরাসি ফুটবল গ্রেট প্লাতিনিকে ছাড়তে হয় উয়েফা। তার ফিফা সভাপতি হওয়ার স্বপ্নও গুঁড়িয়ে যায়। দুর্নীতির অভিযোগে দু’জনই দীর্ঘমেয়াদে নিষিদ্ধ হন ফুটবলে।
নিষেধাজ্ঞা শেষে ২০২২ সালে দুর্নীতির মামলায় আদালতে তাদের খালাস দেওয়া হয়। সুইস প্রসিকিউটররা আদালতের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে আপিল করায় নতুন করে শুনানি শুরু হয়।
প্রসিকিউটররা দু’জনের বিরুদ্ধেই ২০ মাসের স্থগিত কারাদণ্ডের আবেদন করেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ শুনানি শেষে সুইসক্রিমিনাল কোর্টের এক্সট্রাঅর্ডিনারি আপিল চেম্বার সব অভিযোগ থেকে খালাস দেন ৮৯ বছর বয়সি ব্লাটার ও ৬৯ বছর বয়সি প্লাতিনিকে।
মামলা নিষ্পত্তি হওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার কথা বলেছেন প্লাতিনি। তিনি জানান, ১০ বছর ধরে ফিফা এবং কিছু সুইস ফেডারেল প্রসিকিউটরের নিপীড়ন এখন শেষ হয়েছে। আমার সম্মান আজ ফিরে এসেছে এবং আমি খুব খুশি।
প্লাতিনির যে অর্থ বাজেয়াপ্ত করেছিল সুইস কর্তৃপক্ষ, তা এখন ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
রায় ঘোষণার পর মেয়েকে আলিঙ্গন করেন মলিন চেহারার ব্লাটার। পরে সাংবাদিকদের বলেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচার কথা। তিনি জানান, ‘এটা আমার জন্য বড় স্বস্তি। কারণ দশ বছর ধরে এটা চলছে…এখন এটা শেষ হয়েছে এবং আমি শ্বাস নিতে পারছি।’
সুইস অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, তারা লিখিত রায়টি পর্যালোচনা করে দেখবে এবং পরে সিদ্ধান্ত নেবে দেশটির সর্বোচ্চ আইনি কর্তৃপক্ষ সুইস ফেডারেল কোর্টে আবার আপিল করবে কিনা।
সূত্র : গার্ডিয়ান।
বিডি-প্রতিদিন/বাজিত