মৃত্যুর খুব কাছ থেকে ফিরেছেন তামিম ইকবাল। এখন অনেকটাই সুস্থ। গতকাল কেপিজে স্পেশালাইজ হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) বেশকিছু সময় হেঁটেছেন। হাঁটলেও ডাক্তারদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন তিনি। ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে থাকতে হবে তামিমকে। শুধু তাই নয়, দেশসেরা ওপেনার ও সাবেক টাইগার অধিনায়ককে স্বাভাবিক জীবন এবং খেলার মাঠে ফিরতে কমপক্ষে তিন মাস সময় লাগবে। গতকাল কেপিজে হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে তামিম ও তার পরিবারের সঙ্গে আলোচনার পর মিডিয়ার মুখোমুখিতে এমনটাই জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবু জাফর। তিনি বলেন, ‘রোগীর সঙ্গে চিকিৎসকের কিছু বিষয় থাকে। সেগুলো সবার কাছে বলা সমীচীন নয়। এ ছাড়া সাধারণভাবে যেসব পরামর্শ দিয়েছি, সেগুলো জানিয়েছি। আজকে (গতকাল) সময় যাচ্ছে ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত হলো ঝুঁকিপূর্ণ। স্বাভাবিক কার্যক্রম অর্থাৎ খেলাধুলায় ফিরতে তাকে তিন মাস সময় দিতে হবে। এ ছাড়া উনি বাসায় স্বাভাবিক কাজকর্ম, হাঁটাচলা করবেন। তবে বিশ্রামেই থাকতে হবে।’ তামিমকে দেখতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবু জাফর ও হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক আবদুল ওয়াদুদ হাসপাতালে আসেন বেলা ১১টায়। গতকাল সন্ধ্যায় এভারকেয়ার হাসপাতালে তামিমকে স্থানান্তর করা হয়েছে।
গত সোমবার বিকেএসপিতে মোহামেডান-শাইনপুকুর ম্যাচের দিন সকালে হার্ট অ্যাটাক করে তামিমের। ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাকের পর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় সাভার কেপিজে স্পেশালাইজড হাসপাতালে। সেখানে এনজিওগ্রাম করার পর একটি রিং পরানো হয়। তার হার্ট অ্যাটাকের সংবাদে কালোছায়ায় ঢাকা পড়ে ক্রিকেটাঙ্গন। দেশ ও দেশের বাইরের ক্রিকেটাররা তার সুস্থতা কামনায় প্রার্থনা করেন। গতকাল তামিমকে দেখতে সাকিবের বাবা ও মা হাসপাতালে যান। সকালে তামিমের সঙ্গে কথা বলার পর ডাক্তার আবদুল ওয়াদুদ বলেন, ‘সামনের তিন মাস পুরোপুরি পর্যবেক্ষণে থাকবেন তামিম। আজকে (গতকাল) সকালে তামিমের ইকো কার্ডিওগ্রাফ করে হার্টের ফাংশন দেখা হচ্ছিল। দেখে মনে হয়, কোনো সমস্যাই নেই, তরতাজা। তবে মনে রাখতে হবে এটা কিন্তু একটা ছদ্মবেশ। এতে আবারও অস্বাভাবিক বিট হতে পারে। কারণ তার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়েছিল। এতে একটা বড় রক্তনালি বন্ধ হয়েছিল। খাবার নেই, অক্সিজন নেই, সেজন্য অস্বাভাবিক বিটটা হয়েছিল। এখন রক্তনালি খুলে গেছে।’
কেপিজে হাসপাতাল ছেড়ে তামিম ঢাকা যেতে চাইছেন। এ প্রসঙ্গে ডাক্তার ওয়াদুদ আরও বলেন, ‘এখনো ক্ষীণ শঙ্কা আছে। সেজন্য আমরা তাকে বলেছি, ৪৮-৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত একটু জটিল সময়। এর মধ্যে যেন আর কোনো সমস্যা না হয়, কথাবার্তা একটু কম বলা উচিত, বিশ্রামে থাকা উচিত। এ সময়টা এখানে একটু থেকে স্থিতিশীল হয়ে তারপর পুনর্বাসনের জন্য ভালো কোনো জায়গায় যদি যেতে চান, তাহলে যেতে পারবেন।’