১৯৭৩ সালে ফুটবলে বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় দল গঠন হয়েছিল। সেবার মারদেকা কাপ দিয়ে আন্তর্জাতিক আসরে অভিষেক হয়েছিল বাংলাদেশের। যেহেতু প্রথম জাতীয় দল সে কারণে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ ছিল নতুন দলে কারা কারা খেলবেন বা অধিনায়ক কে হবেন। এরপর জাতীয় দলে কে খেলবেন বা খেলবেন না তা নিয়ে তেমন আলোচনা ছিল না। তবে আগ্রহটা ছিল জাতীয় দলে মোহামেডান বা আবাহনীর সংখ্যা নিয়ে। এ দুই দলকে কেন্দ্র করে জাতীয় দলে স্বজনপ্রীতির অভিযোগের শেষ ছিল না। এখনো দল গঠন ঘিরে বিতর্ক ওঠে। তবে স্বজনপ্রীতির বিষয়টি সেভাবে গুরুত্ব পায় না। এবার ভারতের বিপক্ষে এশিয়ান ফুটবল বাছাইপর্বে বাংলাদেশের যে দলটি গঠন হবে এ নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। বিশেষ করে ক্যাম্পে থাকা ফুটবলাররা অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন। অনুশীলনে কোচকে সন্তুষ্ট করাতে পারছেন কি না এ নিয়ে টেনশনেও দিন পার করছেন ফুটবলাররা।
১৯৭৩ সালে আগ্রহটা ছিল প্রথম জাতীয় দলে কারা সুযোগ পাবেন। ৫২ বছর পর জাতীয় দল ঘিরে আবার উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। উৎসাহকে আবার উত্তেজনাও বলা যায়। কেউ কেউ এবার ভারতের বিপক্ষে যে দলটি খেলবে তাকে স্বপ্নের দল বলতেও দ্বিধাবোধ করছেন না। প্রশ্ন হচ্ছে যে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক আসরে বরাবরই ব্যর্থতার বৃত্তে বন্দি। সেখানে আবার জাতীয় দলকে স্বপ্নের দল বলা যায় কীভাবে? ফুটবল ইতিহাসে বাংলাদেশ জাতীয় দলে ব্যতিক্রমী আসছে বলেই তো এত হইচই। আর তা হামজা চৌধুরী ঘিরে। ফুটবলাররা এখন নিবিড় প্রশিক্ষণ করতে সৌদি আরবে রয়েছেন। এখানেই পারফরম্যান্স যাচাই করে কোচ হাভিয়ের কাবরেরা চূড়ান্ত দল গঠন করবেন। জাতীয় দলের চূড়ান্ত দলে কে সুযোগ পাবেন তা বলা যায় না। তবে একজনের জায়গা শতভাগ নিশ্চিত। তিনি হামজা চৌধুরী। অনুশীলনেও থাকছেন না তারপরও অটো চয়েস হামজা। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ খেলা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলার। তিনি যে বাংলাদেশে খেলছেন এটাই জাতীয় দলের বড় অর্জন।
হামজার সতীর্থ হওয়াটাই গর্বের। তাই তো এবার জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়াটা স্বপ্ন বলা হয়। কবে কোচ চূড়ান্ত দল গঠন করবেন এ নিয়ে মুখিয়ে আছেন খেলোয়াড়রা।
হামজার সঙ্গী হওয়া মানে ক্যারিয়ারে বড়প্রাপ্তি। বলতে তো পারবেন আমার সঙ্গে হামজা বাংলাদেশে খেলেছেন এর চেয়ে বড় আনন্দ আর কি হতে পারে। ২৫ মার্চ হামজার সঙ্গে মাঠে নামাটাও হবে ক্যারিয়ারে স্মরণীয় দিন। সৌদি আরবে কোচকে সন্তুষ্ট করতে খেলোয়াড়রা নিজেদের উজার করে দেবেন। দেখা যাক সেই স্বপ্নের সাথী কারা হন।