প্রথম ম্যাচে খেলেননি। রাওয়ালপিন্ডিতে গতকাল সুযোগ পেয়েছেন। বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলতে নেমেই বাজিমাত করেন রাচিন রবীন্দ্র। তিন অঙ্কের ১১২ রানের জাদুকরি এক ইনিংস খেলেন। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির চলতি আসরে এটা নবম সেঞ্চুরি। রবীন্দ্রের সেঞ্চুরিতে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে নিউজিল্যান্ড। হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ। ‘বি’ গ্রুপ থেকে সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গী হয়েছে ভারত। টাইগারদের হারে আসর থেকে বিদায় নিয়েছে পাকিস্তানও। টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল খেলার আশা টিকে থাকার ম্যাচ ছিল গতকাল। বড় কোনো জুটি গড়তে না পারায় ব্ল্যাক ক্যাপসদের কাছে ৫ উইকেটে হেরে আসর থেকে বিদায় নেয় নাজমুল বাহিনী। কিউইদের হারাতে পারেনি ব্যাটিং ব্যর্থতায় এবং জুটির অভাবে। নিউজিল্যান্ডের কাছে হারের পর টুর্নামেন্ট ব্রডকাস্টকে জুটির অভাবের কথা বলেন টাইগার অধিনায়ক নাজমুল, ‘আমরা শুরুটা ভালো করেছিলাম। মাঝামাঝি সময়ে দ্রুত কয়েকটি হারিয়ে ফেলি। যে কারণে ব্যাটিংটা ঠিকমতো করতে পারিনি। উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো ছিল। আমাদের প্রয়োজন ছিল বড় জুটি। কিন্তু সেটা করতে ব্যর্থ হই।’ প্রথম উইকেট জুটিতে অধিনায়ক নাজমুল ও তানজিদ তামিম ৪৫ এবং ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে টাইগার অধিনায়ক ও জাকের আলী অনীক ৪৫ রান যোগ করেন। ম্যাচে এই দুটি টাইগারদের সর্বোচ্চ রানের জুটি।
সেমিফাইনাল খেলতে জিততেই হবে। এমন সমীকরণের ম্যাচে টাইগাররা খেলেছে একাদশে দুই পরিবর্তন নিয়ে। ওপেনার সৌম্য সরকারের পরিবর্তে মিডল অর্ডার শক্তিশালী করতে খেলানো হয় মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে। পেসার তানজিম সাকিবের পরিবর্তে খেলেন ‘স্পিডস্টার’ নাহিদ রানা। দুই পরিবর্তন নিয়ে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করে নাজমুল বাহিনী। ভারত ম্যাচে ওপেনিং জুটিতে রান ছিল ১। তানজিদ-নাজমুল জুটি ৮.২ ওভারে ৪৫ রান যোগ করে গতকাল। আশা জাগিয়েও ২৪ বলে ২৪ রানের বেশি করতে পারেননি তানজিদ। ব্যাটিং অর্ডারে প্রমোশন পাওয়া মেহেদি মিরাজ আউট হন ১৩ রানে। উইকেটের এক প্রান্ত আগলে প্রত্যয়ী ব্যাটিং করেন টাইগার অধিনায়ক নাজমুল। জুটি বাঁধার চেষ্টা করেন হৃদয় ও দুই অভিজ্ঞ মুশফিক ও মাহমুদুল্লাহর সঙ্গে। হৃদয়ের সঙ্গে ৩৩, মুশফিকের সঙ্গে ৯ ও মাহমুদুল্লাহর সঙ্গে ৯ রান যোগ করেন। ভারত ম্যাচে সেঞ্চুরি করা হৃদয় সাজঘরে ফিরেন ব্যক্তিগত ৭ রানে। আগের ম্যাচে শূন্য রানে আউট হওয়া মুশফিক সাজঘরে ফিরেন ব্যক্তিগত ২ রানে। ২৭৪ ম্যাচে ৭৭৯৫ রান করা মুশফিকের সুইপ শটে আউট হওয়ার ধরনে বিস্মিত হন ধারাভাষ্যকার ইয়ান স্মিথ। দলীয় ১১৮ রানে অফ স্পিনার মিচেল ব্রেসওয়েলকে অযথা ‘ডাউন ড্য উইকেট’ খেলতে যেয়ে আউট হন ২৩৯ ম্যাচে ৫৬৮৯ রান করা মাহমুদুল্লাহ। ১১৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা দলকে টেনে নিতে ষষ্ঠ উইকেটে নাজমুল ও জাকের জুটি বাঁধেন। আগের ম্যাচে হৃদয় ও জাকের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে রেকর্ড ১৫৪ রানের জুটি গড়েছিলেন। ষষ্ঠ উইকেটে অধিনায়ক নাজমুলের সঙ্গে জুটি বেঁধে গতকাল যোগ করেন ৬৭ বলে ৪৫ রান। ৩৮তম ওভারের দ্বিতীয় বলে রুর্কের বাউন্সারে হুক খেলে মিস টাইমিং করেন নাজমুল। ৭৭ রানে আউট হন। ১১০ বলের ইনিংসে ছিল ৯ চার। ৪৯ ম্যাচে টাইগার অধিনায়কের এটা ১০ম হাফ সেঞ্চুরি। ভারত ম্যাচে শূন্য রানে আউট হলে নাজমুলের সমালোচনা করেছিলেন সাবেক ক্রিকেটারদের অনেকে। অথচ সর্বশেষ ১০ ম্যাচে নাজমুল একটি সেঞ্চুরিসহ তিনটি হাফ সেঞ্চুরি করেন। স্কোরগুলো যথাক্রমে ৭৭, ০, ৭৬, ৪৭, ১, ৪০, ১২২* ৫১*, ৬ ও ১৫।
২৩৭ রানের টার্গেট দিয়ে টাইগার বোলাররা চেষ্টা করেন লড়াইয়ে। কিন্তু রবীন্দ্র ও টম ল্যাথামের দৃঢ়তায় পেরে ওঠেনি। টানা দুই হারে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির মিশন শেষ নাজমুল বাহিনীর। পাকিস্তানের বিপক্ষে আনুষ্ঠানিকতার ম্যাচে এখন ভালো করতে চাইছেন টাইগার অধিনায়ক, ‘নাহিদ দারুণ বোলিং করেছে। তার বোলিং দেখে আমি খুশি। শেষ দুই বছর আমাদের বোলিং ইউনিট দারুণ করছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ হবে। ম্যাচটি ভালোভাবে শেষ করতে চাই। ব্যাটিং এবং ফিল্ডিং বিভাগে উন্নতি করতে চাই।’ পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি ২৭ ফেব্রুয়ারি রাওয়ালপিন্ডিতে।