নিউজিল্যান্ড জিতে গেলে টানা দুই হারে বাংলাদেশ বিদায় নেবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি থেকে। বিদায় নেবে স্বাগতিক পাকিস্তানও। নিউজিল্যান্ড হেরে গেলে বাংলাদেশের সঙ্গে টিকে থাকবে পাকিস্তানের সেমিফাইনাল খেলার আশা। ভারতের কাছে হারের পর বাংলাদেশের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের হার কামনা করেছেন পাকিস্তানের অধিনায়ক রিজওয়ান। এমন সমীকরণের ম্যাচটি নাজমুলরা গতকাল খেলেছেন রাওয়ালপিন্ডি স্টেডিয়ামে। এই ভেন্যুটি আবার বাংলাদেশ ক্রিকেটের ‘সুখকর’ এক নাম। গত বছর আগস্ট-সেপ্টেম্বরে এই ভেন্যুতে পাকিস্তানকে টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করেছিল। এমন একটি ভেন্যুতে সমালোচকদের সমালোচনার জবাব দিয়েছেন টাইগার অধিনায়ক নাজমুল। মিডল অর্ডারের ব্যর্থতার দিনে খেলেন ৭৭ রানের প্রত্যয়ী একটি ইনিংস। তার হাফ সেঞ্চুরিতে ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৩৬ রান করে বাংলাদেশ। এ রান করতে কিউই স্পিনার মিচেল ব্রেসওয়েলের বিপক্ষে লড়াই করেছেন টাইগার ব্যাটাররা। নাজমুল ছাড়া রান করেছেন জাকের আলি অনিক। ব্যর্থ হয়েছেন একত্রে ৫১৩ ওয়াডে খেলা মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ব্যর্থ হয়েছেন আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান তাওহিদ হৃদয়ও।
সেমিফাইনাল খেলতে জিততেই হবে। এমন সমীকরণের ম্যাচে টাইগাররা খেলেছে একাদশে দুই পরিবর্তন নিয়ে। ওপেনার সৌম্য সরকারের পরিবর্তে মিডল অর্ডার শক্তিশালী করতে নেওয়া হয় মাহমুদুল্লাহকে। পেসার তানজিম সাকিবের পরিবর্তে বাদ দেওয়া হয় ‘স্পিডস্টার’ নাহিদ রানাকে। দুই পরিবর্তন নিয়ে নাজমুল বাহিনী ব্যাটিং করে টস হেরে। ভারত ম্যাচে ব্যর্থ ছিল ওপেনিং জুটি। সৌম্যর জায়গায় নাজমুল ওপেন করেন তানজিদ তামিমের সঙ্গে। আগের ম্যাচে ওপেন জুটিতে ১ রান হয়েছিল। গতকাল ৮.২ ওভারে ৪৫ রান যোগ করে তানজিদ-নাজমুল জুটি। আগের ম্যাচের মতো আশা জাগিয়েও ২৪ বলে ২৪ রানের বেশি করতে পারেননি তানজিদ। ব্যাটিং অর্ডারে প্রমোশন পাওয়া মেহেদি মিরাজ সাজঘরে ফিরেন ব্যক্তিগত ১৩ রানে। উইকেটের আরেক প্রান্ত আগলে দৃঢ়তার সঙ্গে ব্যাটিং করেন টাইগার অধিনায়ক নাজমুল। তিনি জুটি বাঁধার চেষ্টা করেন হৃদয় ও দুই অভিজ্ঞ মুশফিক ও মাহমুদুল্লাহর সঙ্গে। হৃদয়ের সঙ্গে ৩৩, মুশফিকের সঙ্গে ৯ ও মাহমুদুল্লাহর সঙ্গে ৯ রান যোগ করেন। ভারত ম্যাচে মাসল পুল নিয়ে সেঞ্চুরি করা হৃদয় সাজঘরে ফিরেন ব্যক্তিগত ৭ রানে। আগের ম্যাচে শূন্য রানে আউট হওয়া মুশফিক আউট হন ২ রান করে। ২৭৪ ম্যাচে ৭৭৯৫ রান করা মুশফিকের সুইপ শটে আউট হওয়ার ধরনে বিস্মিত হন ধারাভাষ্যকার ইয়ান স্মিথ। দলীয় ১১৮ রানে অফ স্পিনার মিচেল ব্রেসওয়েলকে অযথা ‘ডাউন দ্য উইকেট’ খেলতে যেয়ে আউট হন ছন্দে থাকা মাহমুদুল্লাহ। ২৩৯ ম্যাচে ৫৬৮৯ রান করা মাহমুদুল্লাহর শটস দলকে বিপর্যয়ে ফেলে। ১১৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা দলকে নাজমুল ও জাকের জুটি বাঁধেন ষষ্ঠ উইকেটে। আগের ম্যাচে হৃদয় ও জাকের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে রেকর্ড ১৫৪ রানের জুটি গড়েছিলেন। গতকালও ষষ্ঠ উইকেটে অধিনায়ক নাজমুলের সঙ্গে জুটি বাঁধতে চেষ্টা করেন জাকের। ঠান্ডা মাথায় দুজনে ১১.১ ওভারে ৪৫ রান যোগ করে বিচ্ছিন্ন হন। ৩৮তম ওভারের দ্বিতীয় বলে রুর্কের বাউন্সারে হুক খেলতে যেয়ে মিস টাইমিং করেন নাজমুল। ব্যক্তিগত ৭৭ রানে আউট হন ব্রেসওয়েলের ক্যাচে। ১১০ বলের ইনিংসটি সাজানো ছিল ৯ চারে। ৪৯ ম্যাচে এটা টাইগার অধিনায়কের ১০ম হাফ সেঞ্চুরি। ভারত ম্যাচে শূন্য রানে আউট হওয়ার পর নাজমুলের সমালোচনায় সাবেক ক্রিকেটারদের অনেকেই বলেছিলেন, নেতৃত্বের ভারে ছন্দ হারিয়েছেন নাজমুল। অথচ সর্বশেষ ১০ ম্যাচে নাজমুল একটি সেঞ্চুরিসহ ৩টি হাফ সেঞ্চুরি করেন। স্কোরগুলো যথাক্রমে ৭৭, ০, ৭৬, ৪৭, ১, ৪০, ১২২*, ৫১*, ৬ ও ১৫। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে প্রথম অধিনায়ক হিসেবে নাজমুল পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস খেলে। আগের দুই ম্যাচে হাফ সেঞ্চুরি করেন জাকের। গতকাল তৃতীয় হাফ সেঞ্চুরির আশা জাগিয়ে ৪৯ ওভারের প্রথম বলে রান আউট হন। ব্যক্তিগত ৪৫ রানে তিনি রান আউট হন দ্রুত প্রান্ত বদল করতে যেয়ে। ৪৫ রান করেন ৫৫ বলে ৩ চার ও এক ছক্কায়। টাইগার ব্যাটিংয়ের রশি টেনে ধরেন নিউজিল্যান্ডের অফ স্পিনার মিচেল ব্রেসওয়েল ১০ ওভারের স্পেলে ২৬ রানের খরচে ৪ উইকেট নিয়ে।