মসজিদ, মন্দির ও চার্চের মতো স্পর্শকাতর ভবনে আইস (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) এজেন্টের অবাধ প্রবেশাধিকারের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিলেন ম্যারিল্যান্ডের ফেডারেল জজ। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত অবৈধ অভিবাসী গ্রেফতার অভিযানে স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অনুমতি ছাড়াই আইসসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবাধ প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়েছে। তবে এই আদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থি হিসেবে অভিহিত করে ম্যারিল্যান্ডের ফেডারেল কোর্টে মামলা করেছিল ম্যারিল্যান্ড, ম্যাসাচুসেটস, পেনসিলভেনিয়া, জর্জিয়া, ক্যালিফোর্নিয়া ও ভার্জিনিয়া স্টেটের পক্ষে একটি সংগঠন।
তারা সারা আমেরিকার মসজিদ-মন্দির-চার্চে আইসের প্রবেশাধিকারকে নিষিদ্ধের আবেদন জানালেও জজ থিউডোর চ্যাং তা মঞ্জুর করেননি। তবে ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রদত্ত এ অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আদেশ শুধুমাত্র উল্লেখিত স্টেটসমূহের জন্য কার্যকর হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ওয়াশিংটন স্টেটের সিয়াটলস্থ ফেডারেল কোর্টে খ্রিস্টান ও জুইশ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বকারী দুই ডজনেরও অধিক সংগঠনের পক্ষ থেকে পৃথক একটি আবেদনে সারা আমেরিকার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আইসের গ্রেফতার-অভিযানের বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়েছে। সেই আবেদনের শুনানি এখনো হয়নি।
এ ছাড়া নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী অবৈধভাবে বসবাসরতদের মধ্যে যারা গুরুতর অপরাধী তাদের গ্রেফতার ও বহিষ্কারের কার্যক্রম চলাবস্থায় গত ২৭ জানুয়ারি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট অতিরিক্ত এক নির্দেশে স্কুল-হাসপাতাল-উপাসনালয়েও আইসের প্রবেশাধিকার দেয়। তা নিয়ে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। কারণ, বহু বছর ধরেই ধর্মীয়-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-হাসপাতালের মতো সুরক্ষিত এবং স্পর্শকাতর এলাকায় কখনোই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রবেশাধিকার নেই। বিশেষ পরিস্থিতিতে গ্রেফতার/তল্লাশি অভিযানের প্রয়োজন হলে সে সব প্রতিষ্ঠানে সুপারভাইজারের অনুমতি নিতে হতো। কিন্তু ট্রাম্পের সর্বশেষ এই আদেশে সবকিছুকে হটিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আবেদনে যুক্তি দেখানো হয়েছে যে, অভিবাসনের স্ট্যাটাসহীন লোকজনকে গ্রেফতারের অভিযান পরিচালনার পর থেকেই অনেক মানুষ উপাসনালয়ে আসছেন না, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও উপস্থিতি উদ্বেগজনকহারে কমেছে। হাসপাতালে রোগীর আগমনেও ভাটা পড়েছে। যদিও স্কুল এবং হাসপাতালের ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কেউই আদালতে যায়নি।
বিডি প্রতিদিন/এমআই