যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দেশের অন্যতম কয়লাভিত্তিক দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। চারদিনের ব্যবধানে চালু থাকা দুটি ইউনিটের বয়লারের পাইপে ছিদ্র (লিকেজ), বেয়ারিং ভেঙে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে যায়। এতে ৩ নম্বর ইউনিট গত শনিবার এবং অপর ১ নম্বর ইউনিট গত মঙ্গলবার বন্ধ করে দেওয়া হয়।
তবে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে একটি এবং দুই সপ্তাহের মধ্যে অপর ইউনিট থেকে আবারও বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে বলে জানান বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী।
বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, মঙ্গলবার বিকেলে ১২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা সম্পন্ন ১ নম্বর ইউনিটের বয়লারের পাইপে লিকেজ হয়। পরে ইউনিটটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর আগে শনিবার ৩ নম্বর ইউনিটিও একই কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ১ নম্বর ইউনিট আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আমরা সচল করতে পারব বলে আশা করছি। ৩ নম্বর ইউনিট আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সচল করা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বড়পুকুরিয়ার কয়লা ব্যবহার করে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়ে আসছে। তিনটি ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াট। এর মধ্যে ১ ও ২ নম্বর ইউনিট মিলে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে ২৫০ মেগাওয়াট। ৩ নম্বর ইউনিট ২৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা সম্পন্ন।
এর মধ্যে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে কেন্দ্রের ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ২ নম্বর ইউনিট বন্ধ রয়েছে। শুধু সচল ছিল ১ নম্বর ও ৩ নম্বর ইউনিট, যা থেকে প্রায় ২৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে যোগ করা হতো। তবে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় গত শনিবার ৩ নম্বর ইউনিট বন্ধ করে দেওয়া হয়। চালু ছিল ১ নম্বর ইউনিট। সেই ইউনিটে বয়লারে ছিদ্র (লিকেজ) হওয়ায় যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। পরে মঙ্গলবার বিকেলে সচল ১ নম্বর ইউনিটও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তিনটি ইউনিটের উৎপাদন কার্যক্রম।
বিডি প্রতিদিন/এমআই