সারাদেশে বিশেষ ধরনের গাছ ও বন সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে জাতীয় ঐতিহ্য, স্মারক বৃক্ষ, পবিত্র বৃক্ষ, প্রাচীন বৃক্ষ এবং কুঞ্জবন ঘোষণার আবেদন আহ্বান জানিয়েছে বন অধিদপ্তর।
বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২-এর ধারা ২৩ (১) অনুযায়ী এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, 'প্রয়োজনীয় তথ্যসহ সম্ভব হলে বৃক্ষ বা কুঞ্জবনের স্পষ্ট ছবিসহ আবেদন আগামী ৩০ মার্চের মধ্যে [email protected] ইমেইলে পাঠানোর অনুরোধ করা হচ্ছে।'
ডাকযোগে আবেদন পাঠানোর ঠিকানা: প্রধান বন সংরক্ষক, বন অধিদপ্তর, বন ভবন, আগারগাঁও, ঢাকা-১২০৭ ।
বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২-এর ধারা ২৩ (১) অনুযায়ী বিশেষ ধরনের গাছ ও বন সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অধীন বন অধিদপ্তর। জাতীয় ঐতিহ্য, স্মারক বৃক্ষ, পবিত্র বৃক্ষ, প্রাচীন বৃক্ষ এবং কুঞ্জবন বিষয়ে বিস্তারিত জানতে বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষকের টেলিফোন নম্বর: ৫৫০০৭১১১ এ যোগাযোগ করা যেতে পারে।
‘স্মারক বৃক্ষ’ হলো যে সকল বৃক্ষের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও প্রথাগত মূল্য রয়েছে এরূপ ঐতিহ্যবাহী বৃক্ষ বা পুরাতন বয়স্ক দেশীয় উদ্ভিদ বা শতবর্ষী বৃক্ষ। ‘পবিত্র বৃক্ষ’ বলতে কোনো ধর্ম ও গোত্রের জনগোষ্ঠীর নিকট ধর্মীয় পবিত্র উদ্ভিদ হিসেবে স্বীকৃত কোন বৃক্ষকে বুঝায়।
‘কুঞ্জবন’ হলো কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষরাজি ও লতাগুল্মের সমাহার, যা জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাছে সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও প্রথাগত মূল্য রয়েছে। তাছাড়াও, সরকার সংরক্ষণের স্বার্থে ৫০ বছর বা তদূর্ধ্ব গাছের তালিকা প্রস্তুত করবে।
স্মারক বৃক্ষ, পবিত্র বৃক্ষ, প্রাচীন গাছ বা কুঞ্জবন চিহ্নিত করতে চাইলে—
১. বৃক্ষের নাম/কুঞ্জবনের নাম (স্থানীয় নামসহ, যদি সাধারণ নাম থাকে)।
২. এলাকার নাম: গ্রাম, ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা।
৩. কোনো হাওর-জলাভূমি, বনভূমি, পাহাড়ে অবস্থিত হলে তার নাম।
৪. ক্যাটাগরি: স্মারক বৃক্ষ/পবিত্র বৃক্ষ/প্রাচীন বা শতবর্ষী বৃক্ষ/ কুঞ্জবন।
৫. বৃক্ষ/কুঞ্জবনের আনুমানিক বয়স; ৬. যে বা যারা সংরক্ষণ করছেন তার/তাদের নাম।
৭. স্মারক বৃক্ষ/পবিত্র বৃক্ষ/প্রাচীন বা শতবর্ষী বৃক্ষ/ কুঞ্জবন হলে তার কারণ।
৮. বৃক্ষ/কুঞ্জবনের মালিকানা সংক্রান্ত তথ্য।
৯. বৃক্ষটি/কুঞ্জবন সংরক্ষণ বা টিকে থাকার জন্য কোনো চ্যালেঞ্জ/সমস্যা থাকলে এবং
১০. প্রস্তাবকারীর নাম, যোগাযোগের ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর ইত্যাদি তথ্যসহ আবেদন পাঠানোর জন্য সবাইকে আহ্বান জানানো হচ্ছে।
বিডি প্রতিদিন/মুসা