দেশের রেল চলাচলে যোগ হচ্ছে নতুন দিগন্ত। যমুনা নদীর ওপর দিয়ে ডাবল লাইনের রেলসেতুর উদ্বোধন করা হবে আজ। এর ফলে দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার রেল যোগাযোগে যোগ হবে নতুন মাত্রা। এ রেলসেতুতে দুটি লাইনে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৮৮টি ট্রেন চলাচল করতে পারবে। এর আগে সারা দিনে সর্বোচ্চ ৩৮টি ট্রেন পরিচালনার সক্ষমতা ছিল। নতুন রেলসেতুতে ব্রড গেজের পাশাপাশি থাকবে মিটারগেজও। এ ছাড়া নতুন সেতুতে চলবে মালবাহী ট্রেনও। ইন্টারন্যাশনাল কনটেইনারবাহী রেলও চলবে এ সেতু দিয়ে। গত ১২ জানুয়ারি থেকে যমুনা সেতুতে পরীক্ষামূলকভাবে একলাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল করছে। উদ্বোধনের পর আজ থেকে ডাবল লাইনে ট্রেন চলাচল করবে। যমুনা রেলসেতু চালু হওয়ার পর দেশের উত্তরাঞ্চলে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলবে। যমুনা নদীর ওপর বিদ্যমান সেতুর সমান্তরালে ৩০০ মিটার উজানে ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন সংবলিত এ সেতুর উদ্বোধন করবেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম।
তথ্যমতে, ২০১৬ সালের ৬ ডিসেম্বর একনেক সভায় যমুনা রেলওয়ে সেতু অনুমোদিত হয়। প্রকল্পটির অনুমোদিত ব্যয় ১৬ হাজার ৭৮০ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।
উত্তরের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও এ রেলসেতুর মাধ্যমে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, খুলনা, যশোরসহ পশ্চিমাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলাতেও রেল চলাচল করবে এ সেতুর মাধ্যমে। ধাপে ধাপে ট্রেনের সংখ্যা বাড়বে সেতুতে।
জানা গেছে, ডুয়েল গেজ ডাবল ট্র্যাকসহ ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটারের এই সেতুতে মোট পিয়ার সংখ্যা ৫০টি এবং স্প্যান সংখ্যা ৪৯টি। সেতুর উভয় প্রান্তে দশমিক শূন্য ৫ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট, সাড়ে সাত কিলোমিটার রেলওয়ে এপ্রোচ এমব্যাংকমেন্ট এবং লুপ ও সাইডিংসহ মোট ৩০ কিলোমিটার রেললাইন প্রকল্পে রয়েছে। সেতুর পূর্ব প্রান্তের ইব্রাহিমাবাদ স্টেশন ও পশ্চিম প্রান্তের সয়দাবাদ স্টেশন ভবন আধুনিকীকরণসহ ইয়ার্ড রিমডেলিং করা হয়েছে ইতোমধ্যে। প্রকল্পের আওতায় স্টেশন ভবন, প্ল্যাটফর্ম, প্ল্যাটফর্ম শেড, কালভার্টসহ অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রকল্পের ক্রমপুঞ্জিত ভৌত অগ্রগতি ৯৯ শতাংশ।
যমুনা রেলওয়ে সেতু নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আগে ঘণ্টায় ২০ কিলোমিটার গতিতে সেতুতে রেল পারাপার করত। এক স্টেশন থেকে আরেক স্টেশনে যেতে ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট সময় লাগত। এখন সেতুতে রেলের অপারেটিং স্পিড হবে ১০০ কিলোমিটার। আর ৮ থেকে ১০ মিনিটে এক স্টেশন থেকে আরেক স্টেশনে যাওয়া যাবে। তিনি বলেন, এই সেতু উত্তরাঞ্চল-পশ্চিমাঞ্চলসহ বিভিন্ন জেলার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে।