বসন্ত বাতাসে ও সই গো, বসন্ত বাতাসে, বন্ধুর বাড়ির ফুলের গন্ধ আমার বাড়ি আসে। বন্ধুর বাড়ির ফুলবাগানে নানা বর্ণের ফুল.....সই গো বসন্ত বাতাসে। কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী শাহ আবদুল করিম গেয়ে গেছেন বসন্তের এমন গান। ঋতুরাজ বসন্ত এখন মধ্য গগনে। তাই তো এই বসন্তকে রাঙাতে সম্মুখে চওড়া পাপড়ি, পেছনে দুটি ডানার মতো ছড়ানো এবং দুটি একত্রে বাঁকানো, পাখির ঠোঁটের মতো অরণ্যের অগ্নিশিখা পলাশ। পলাশের সমারোহে ইঙ্গিত দেয় পলাশ যেন বসন্তেরই পূর্ণতা। বগুড়া জেলার বিভিন্ন পথের ধারে, বাগানে ও প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে শোভা পাচ্ছে পলাশ ফুল। পলাশের মগডালে বসে খাবার সংগ্রহ করছে টিয়া পাখি। এমন নান্দনিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ পথচারী। পশাল ফুলের কচি পাপড়ি খেতে কাঠ শালিক ও টিয়া পাখি ছোটাছুটি করছে। মূলত প্রকৃতির মিলন হয় বসন্ত ঋতুতেই। শুধু পলাশ নয়; শিমুল গাছে লাগে আগুন রঙের খেলা। দিন দিন শিমুল-পলাশ গাছ উজাড় হলেও বগুড়া জেলার বিভিন্ন স্থানে পলাশ-শিমুলের দৃশ্য চোখে পড়ে। ফুল ফোটার নান্দনিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয় পথচারীরা। বগুড়া শহরের শিল্পকলা একাডেমি, কলোনি বাজার, বনানী টিঅ্যান্ডটি আবাসিক এলাকাসহ বিভিন্ন পথের ধারে ফুটে আছে পলাশ ফুল।
এ ছাড়া বগুড়ার বিভিন্ন সড়কের ধারে রয়েছে আগুনরাঙা পলাশ ফুলের ছোঁয়া। নান্দনিক সৌন্দর্য প্রতিনিয়ত মুগ্ধ করছে এসব সড়কে চলাচলকারীদেরকে। গাছে গাছে ফুটন্ত আগুনরাঙা পলাশ ফুল আর পাখিদের কিচিরমিচির শব্দ। দূর থেকে দেখে মনে হয় এ যেন সড়কের মাঝে ফাগুনের আগুন। বসন্তে প্রকৃতিকে নতুন রূপ দিয়েছে পলাশ ফুলের এমন দৃশ্য। পলাশ ফুল সুপ্রাচীনকালেও ছিল সমান আদরনীয়। উদ্যান আর কৃত্রিম জলাধারের পাশেও ছিল পলাশ বৃক্ষের মাতামাতি। পলাশ ও শিমুলের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য মন কাড়ে সবারই। বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফরিদুর রহমান ফরিদ জানান, আগের মতো আর পলাশ ফুল চোখে পড়ে না। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ষড়ঋতুর বাংলাদেশে ঋতুর চারিত্রিক পরিবর্তন হচ্ছে। আর এর প্রভাব পড়ছে পরিবেশ ও প্রকৃতিতে। তাই পলাশের গাছগুলো হারিয়ে যাচ্ছে দিন দিন। পলাশ ফুলকে আগামী প্রজন্মের কাছে পরিচয় করিয়ে দিতে হলে ফুলটির গাছকে পরিচর্যা করতে হবে। নতুন করে পলাশ ফুলের চারা রোপণ করার উদ্যোগ নিতে হবে।