সাবেক হুইপ ও চট্টগ্রামের পটিয়া আসনের এমপি সামশুল হক চৌধুরী বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীদের কাছে ছিলেন মূর্তিমান আতঙ্ক। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মাদক ও অস্ত্র ব্যবসা, সরকারি অর্থ লুটপাটসহ নানা অপকর্মের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা কামিয়েছে সামশু, ছেলে নাজমুল হক চৌধুরী শারুন এবং তার পরিবারের সদস্যরা। জুলাই-আগস্ট বিপ্লবে গণহত্যায় মদত ও অর্থ জোগানের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। হত্যাসহ নানান অভিযোগে চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় ডজনের ওপরে মামলাও হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। পরিবার পরিজন নিয়ে চট্টগ্রামে আত্মগোপনে থাকলেও রহস্যজনক কারণে ধরাছোঁয়ার বাইরে আছে সে ও তার পরিবারের সদস্যরা। এ বিষয়ে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, ‘সাবেক হুইপ সামশুল হক এবং তাদের পরিবারের বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। এ বিষয়ে আরও গভীরভাবে কাজ করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে পটিয়া থানা পুলিশকে।’ পটিয়া আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ও বিএনপি নেতা গাজী সিরাজ উল্লাহ বলেন, ‘বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিচ্ছু সামশু এবং তার পরিবার পটিয়ায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। বিএনপির শত শত নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। ভাঙচুর করা হয়েছে তাদের ঘরবাড়ি। অথচ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আট মাস চললেও তাদের গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। তাদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।’
জানা যায়, জুলাই বিপ্লবে চট্টগ্রাম নগরী ও পটিয়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন ছাত্র-জনতার মিছিলে হামলা, গুলি, ককটেল বিস্ফোরণসহ ডজনের ওপরে মামলায় প্রধান আসামি সামশুল হক চৌধুরী। এসব মামলায় তার ছেলে শারুন, ছোট ভাই নবাব, মহব্বত, ভাগিনা লোকমান, কথিত পিএস এজাজসহ অনেককে আসামি করা হয়েছে। কিন্তু গত সাত মাসে তাদের কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। জুলাই বিপ্লবের অন্যতম বিরোধিতাকারী গ্রেপ্তার না হওয়ায় চরম হতাশ বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীরা। অথচ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পটিয়া উপজেলায় রীতিমতো দানব রূপ ধারণ করে সামশুল হক ও তাদের পরিবার। সীমাহীন দুর্নীতি, লুটপাট, দলীয়করণ এবং আত্মীয়করণের মাধ্যমে প্রশাসনে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার, সরকারি জমি-খাল দখল থেকে শুরু করে এমন কোনো অপরাধ নেই যা সামশু ও তার পরিবার করেনি।