প্রযুক্তিগত দক্ষতার উন্নয়ন ৫০ শতাংশ বাড়লে দেশের প্রায় ১৮ লাখ কর্মজীবী চাকরিহারা হতে পারেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হবে বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাত। এ ছাড়া প্রভাবিত হবে খাদ্যপণ্য, চামড়া ও চামড়াসামগ্রী, ফার্নিচার, ফার্মাসিউটিক্যালস, প্লাস্টিক ও রাবার শিল্প খাত। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। এদিকে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে প্রযুক্তির ব্যবহারও দিন দিন বাড়ছে। বিভিন্ন কারখানা শ্রমিক থেকে প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল হচ্ছে।
প্রযুক্তি, সাপ্লাই চেইন এবং প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থান’ শীর্ষক গবেষণায় বিআইডিএসের গবেষণা সহযোগী ফারহিন ইসলাম জানান, প্রযুক্তির উন্নয়ন হলে শুধু তৈরি পোশাক খাতে ১০ লাখ মানুষের চাকরি হারানোর আশঙ্কা করা হয়েছে। এ ছাড়া খাদ্যপণ্য, চামড়া ও চামড়াসামগ্রী, ফার্নিচার, ফার্মাসিউটিক্যালস, প্লাস্টিক ও রাবার শিল্প খাতে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ফলে সব মিলিয়ে ১৮ লাখ কর্মীর কাজ চলে যেতে পারে।
গবেষণায় বলা হয়, যেসব খাতে মানুষের কাজের সহায়ক শক্তি হিসেবে প্রযুক্তি ব্যবহার হয়, সেখানে ছাঁটাই হবে কম। আর যেখানে মানুষের কাজের বিকল্প হিসেবে প্রযুক্তির ব্যবহার হয়, সেখানে ছাঁটাই হবে বেশি। ফারহিন ইসলাম বলেন, শ্রমশক্তিকে দক্ষ করে তুলতে পারলে উৎপাদন বাড়ানো যাবে। সেই সঙ্গে চাকরি বজায় রাখতে পারবে। সরকারকে শ্রমশক্তি উন্নয়নের জন্য আরও পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
এদিকে প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে দেশের রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাত। দিন দিন রপ্তানি বাড়ার সঙ্গে বাড়ছে উৎপাদনশীলতার প্রতিযোগিতা। রপ্তানি বাড়াতে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিত্যনতুন মেশিনারিজ কিনছেন উদ্যোক্তারা। আগে ১০ থেকে ২০ জন শ্রমিক একদিনে যে কাজ করতে পারতেন, এখন সে কাজ মেশিন প্রযুক্তিতে একজন শ্রমিকই করতে পারেন। ফলে সনাতন পদ্ধতি রেখে আধুনিক প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে উদ্যোক্তাদের। তারা বলছেন, আধুনিক মেশিন তাদের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এবং খরচ কমাতে সহায়ক হবে। তাদের আশা, প্রযুক্তির কল্যাণে দেশের তৈরি পোশাকশিল্প আরও একধাপ এগিয়ে যাবে।
একজন শ্রমিক এক সপ্তাহে যে কাজ করবে, মেশিন এক ঘণ্টাতে সে কাজ করতে পারে জানিয়ে ডিজিটাল করপোরেশনের অ্যাসিসট্যান্ট ম্যানেজার মো রাকিব বলেন, এইট এইট সাপ্লিমেশন মেশিনে ৮টা হেড দিয়ে প্রিন্টের কাজ করে। এ মেশিন দিয়ে সাপ্লিমেশন পেপার প্রিন্ট করা হয়। এরপর রোলারের মাধ্যমে কাপড়ে রূপান্তর করা হয়। এজন্য কাপড়টি পলেস্টার হতে হবে। শুধু জার্সির কাপড়ের জন্য সাপ্লিমেশন মেশিন ব্যবহৃত হয়। এরপর রোলারের মাধ্যমে ট্রান্সফার করা হয়। একজন শ্রমিক এক সপ্তাহে যে কাজ করবে, এ মেশিন এক ঘণ্টাতে সেটি করতে পারবে। হাতে বোনা তাঁতের জায়গায় স্থান নিয়েছে অটোমেটিক মেশিন। অটোমেটিক প্রযুক্তিতে একজন অপারেটর ১০টি মেশিন চালাতে সক্ষম। প্রযুক্তির মাধ্যমে সোয়েটার নিমেষেই তৈরি করা সম্ভব জানিয়ে চায়না কোম্পানি লিয়ান জিংয়ের মার্কেটিং অফিসার মো. নিরব বলেন, আগে সোয়েটার বোনার মেশিন ম্যানুয়ালি (হাতে) চলত। প্রযুক্তির উন্নতি হওয়ায় এখন এসব মেশিন অটোমেশন হয়েছে। আগে ম্যানুয়াল মেশিন এক থেকে দেড় লাখ টাকায় পাওয়া যেত। তবে অটোমেশিনগুলো ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। ম্যানুয়াল মেশিন একজন অপারেটর চালাতেন। এখন অটোমেশন হওয়ার পর একজন অপারেটর ১০টি মেশিন চালাতে সক্ষম। হাতে বোনা তাঁতের জায়গায় স্থান নিয়েছে অটোমেটিক মেশিন।