ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় গত রবিবার গভীর রাতে শ^শুরবাড়িতে বেড়াতে এসে স্ত্রী যূথী আক্তার (২২) ও তার ছোট বোন স্মৃতি আক্তারকে (১২) খুন করে পালিয়েছেন সামিউল ইসলাম (৩০)। একই সঙ্গে দুই বোনকে খুন করার ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। যূথী আক্তার ও স্মৃতি আক্তার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ধজনগর গ্রামের মৃত রওশন আলীর মেয়ে।
নিহতের পরিবার, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সামিউল ইসলামের সঙ্গে দেড় বছর আগে বিয়ে হয় যুথি আক্তারের। স্বামীর বাড়িতেই থাকতেন যুথি আক্তার। তাদের মা মামলার কারণে জেল হাজতে রয়েছেন। বাড়িতে থাকেন যুথি আক্তারের ছোট বোন স্মৃতি আক্তার, ছোট ভাই জাহিদ হোসেন। বড় ভাই সৌদি আরবে থাকেন। যুথী এক মাস আগে বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। এর মাঝে সামিউল স্ত্রী যুথীকে ফিরে যেতে বলেন। কিন্তু যুথী যেতে রাজি না হওয়ায় তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হয়। পরে গত সপ্তাহে সামিউল তার শ^শুরবাড়িতে বেড়াতে আসেন। রবিবার রাতে খাবার শেষে যুথি আক্তার ও তার ছোট বোন স্মৃতি আক্তার বাড়ির একটি কক্ষে এবং সামিউল ইসলাম ও তার শ্যালক জাহিদ হোসেন অন্য কক্ষে ঘুমিয়েছিল। রবিবার গভীর রাতে জাহিদ ঘুম থেকে জেগে তার দুলাভাইকে দেখতে পায়নি। ঘরের দরজা খোলা ছিল। পাশের কক্ষে তার দুই বোন অজ্ঞান অবস্থায় পড়েছিল। এ সময় জাহিদ চিৎকার করতে থাকলে বাড়ির আশপাশের লোকজন দৌড়ে এসে যুথি ও স্মৃতির লাশ দেখতে পায়। খবর পেয়ে গতকাল সকালে কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল কাদের, পরিদর্শক (তদন্ত) রিপন কুমার দাশসহ কসবা থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। নিহতের ছোট ভাই জাহিদ হোসেন বলেন, দুলাভাই আমার সঙ্গে ঘুমিয়েছিল। গভীর রাতে ঘুম থেকে উঠে দেখি তিনি নেই। ঘরের দরজা খোলা। কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল কাদের বলেন, তাদের বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে খুন করা হয়েছে। কী কারণে খুন করা হয়েছে তার সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। নিহত দুজনের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। গতকাল এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত থানায় মামলা হয়নি।