নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে একটি ভবনের এসি কমপ্রেসর বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল দুপুরে উপজেলার কাঁচপুর মেঘা কমপ্লেক্সে একটি বেসরকারি ব্যাংকে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন চাঁদপুর সদরের সেলিম বেপারির ছেলে তুহিন (২৫) ও লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা রাফি (২২)। এদিকে সাভারের আশুলিয়া ও হেমায়েতপুরে পৃথক সিলিন্ডার গ্যাসের লিকেজ বিস্ফোরণে শিশু ও নারীসহ ১০ জন দগ্ধ হয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জের শিমরাইল ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, দুপুরে কাঁচপুর ইস্টার্ন ব্যাংকের এসির কমপ্রেসর মেরামতের কাজ চলাকালীন তুহিন ও রাফি বিস্ফোরণে দগ্ধ হন। খবর পেয়ে আহতদের উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল বারী বলেন, বিস্ফোরণের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। দুজন নিহতের খবর পেয়েছি। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।
গ্যাস লিকেজ বিস্ফোরণে শিশুসহ দগ্ধ ১০ : সাভারের আশুলিয়া ও হেমায়েতপুরে পৃথক সিলিন্ডার গ্যাসের লিকেজ বিস্ফোরণে শিশু ও নারীসহ ১০ জন দগ্ধ হয়েছেন। আশুলিয়ায় সিলিন্ডার গ্যাসের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে পাঁচ বছরের শিশু তানহাসহ তার পিতামাতা দগ্ধ হয়েছেন। সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে তাদের ঢাকার জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। অপরদিকে হেমায়েতপুরে সিলিন্ডার গ্যাসের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে শিশুসহ সাতজন দগ্ধ হয়েছেন। দগ্ধদের সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গতকাল ভোর সাড়ে ৬টার দিকে আশুলিয়ার দুর্গাপুর চালাবাজার এলাকার সোহাগ মন্ডলের মালিকানাধীন দোতলা ভাড়াবাড়ির নিচতলার একটি ফ্ল্যাটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণে দগ্ধ ব্যক্তিরা হলেন মো. জাহাঙ্গীর (৪০), বিউটি বেগম (৩৫) ও তাঁদের মেয়ে তানহা (৫)।
অপরদিকে সাভারের হেমায়েতপুরে সিলিন্ডার গ্যাসের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে শিশুসহ সাতজন দগ্ধ হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রবিবার সন্ধ্যায় হেমায়েতপুরের নালিয়াসুর এলাকার নবাব আলীর মালিকানাধীন একতলা বাড়ির একটি কক্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বাড়ির মালিকের স্ত্রী আমেনা বেগম কক্ষ তালাবদ্ধ করে সন্ধ্যার আগে বাইরে যান। এ সময় পাশের ভাড়াটিয়ারা কক্ষের ভিতর থেকে গ্যাস লিকেজ টের পেয়ে আমেনা বেগমকে মুঠোফোনে বিষয়টি জানালে তিনি দরজা ভেঙে ফেলতে বলেন। দরজা ভাঙতে গেলে হাতুড়ির আঘাতে দরজার লোহায় সৃষ্ট স্পার্ক থেকে মুহূর্তে আগুন ধরে যায়। এ সময় আগুনে এক শিশু ও তিন নারীসহ সাতজন দগ্ধ হন। পরে তাদের উদ্ধার করে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দগ্ধরা হলেন- মো. সোলায়মান (১৪), সুজাত মোল্লা (২৬), মো. জিসান (২০), মোছা. হালিমা (৪২), মোছা. শিল্পী (৩৫), মোছা. আমেনা (৬০) ও মো. সজীব (৮)।