শরীয়তপুরে ছেলে-মেয়ের বিয়ের দাওয়াত নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সদর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের কাজিকান্দি দুই ভাই ইমামুল হক সরদার ওরফে এনামুল ও আজিজুল হক সরদারের সমর্থকদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, কাজিকান্দি ৮ ফেব্রুয়ারি ইমামুল হক সরদারের মেয়ের বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। এতে ছোট ভাই আজিজুল সরদারের পরিবারকে দাওয়াত দেননি। ২১ ফেব্রুয়ারি আজিজুল সরদারের ছেলের বিয়ে। প্রতিশোধ হিসেবে তিনিও এনামুলের পরিবারকে দাওয়াত না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এ নিয়ে দুই পক্ষে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এনামুল সরদারের সমর্থকরা দেশি অস্ত্র, রামদা, বাঁশ ও লাঠি নিয়ে আজিজুল সরদারের বাড়িতে হামলা চালান। একপর্যায়ে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটান। সংঘর্ষে উভয় পক্ষে ১০ জন আহত হন। এর মধ্যে চারজন শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বাকিরা বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। গুরুতর আহত শামসুল হক সরদারকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতরা হলেন ইউপি সদস্য আবদুর রহমান কাজী (৫০), সাবেক ইউপি সদস্য মনোয়ার কাজী (৩২), বোরহান কাজী (৫০), আজিজুল সরদার (৫০)। তবে স্থানীয়দের মতে, দুই ভাইয়ের মধ্যে জমিসংক্রান্ত বিরোধ দীর্ঘদিনের, যা এ সংঘর্ষের একটি কারণ হতে পারে।
আহত ইউপি সদস্য আবদুর রহমান কাজী আজিজুল সরদারের পক্ষের লোক। তিনি বলেন, ‘এনামুল সরদার ও খলিল মাদবরের নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। আমাদের কয়েকজনকে কুপিয়ে পিটিয়ে আহত করে। আমরা এনামুলদের দাওয়াত দিতে চেয়েছিলাম। অথচ এনামুল তার মেয়ের বিয়েতে আমাদের দাওয়াত দেয়নি। তবু তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়।’
এদিকে এনামুল সরদারের পক্ষে তার বড় ভাই শামসুল হক সরদার বলেন, ‘সংঘর্ষের খবর পেয়ে আমি থামাতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তখনই আমার ওপর হামলা হয়। আমার মাথা ও হাতে আঘাত লেগেছে। আমি এবং আমার কোনো লোকজন কারও ওপর হামলা চালাইনি।’
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আবদুর রশিদ জানান, হাসপাতালে চারজন ভর্তি আছেন। বাকিরা চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। গুরুতর আহত শামসুল হককে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আহতদের শরীরে ধারালো অস্ত্র ও লাঠির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
এ বিষয়ে শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম বলেন, পারিবারিক দ্বন্দ্বে এ সংঘর্ষ। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। কোনো পক্ষ মামলা করেনি, তবে তদন্ত চলছে।