কুড়িগ্রামের রাজারহাটে বাবাকে চোর অপবাদ দেওয়ার প্রতিবাদ জানাতে গেলে তাকে ৬ ঘণ্টা গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এরপর এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে গত রাতে পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা করেন। পরে রাতেই দুই নম্বর আসামিকে গ্রেপ্তার করে রাজারহাট থানা পুলিশ। গতকাল সকালে আসামি মায়াকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জেলার রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের কিশামত নাখেন্দা গ্রামের মোস্তফা মিয়ার মেয়ে নবম শ্রেণির ছাত্রী মোহনা আক্তারের ছোট বোন আশা মণি (৯) কিছুদিন ধরে অসুস্থ। মোহনার দাদি তার নাতনির চিকিৎসার জন্য তার বাবাকে একটি গরু দেন। এনিয়ে মোহনার এক দুর সম্পর্কের আত্মীয় আবদুল কাদের মোহনার বাবাকে চোর সাব্যস্ত করে চৌকিদার পাঠিয়ে হুমকি দেন। গত মঙ্গলবার মোহনা তার বাবাকে চোর অপবাদের প্রতিবাদ করতে গেলে তাকে শারীরিক নির্যাতনসহ প্রায় ৬ ঘণ্টা গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে রাখেন। পরে খবর পেয়ে বিকালের দিকে রাজারহাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরে রাতে মোহনার বাবা মোস্তফা মিয়া বাদী হয়ে আবদুল কাদেরসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে রাজারহাট থানায় একটি মামলা করেন। পরে রাতেই মামলার ২ নম্বর আসামি মায়া বেগমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গতকাল সকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে অভিযুক্ত আবদুল কাদের স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল কুদ্দুসের নির্দেশে গাছে বেঁধে রাখার অভিযোগ করলেও মামলার বাদী ওই চেয়ারম্যানকে আসামি করেননি বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী মোহনা বলেন, ‘আবদুল কাদের আমাকে রশি দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে গলায় ওড়না প্যাঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা চালায়। এ ছাড়া আমাকে মারপিট করে হাঁটু, গলা ও পিঠে জখম করায় অসুস্থ হয়ে পড়ি।’ এ ব্যাপারে রাজারহাট থানার ওসি তছলিম উদ্দিন বলেন, আসামি মায়া বেগমকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।