সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এবং তার স্ত্রী ফিরোজা পারভীনের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রায় ১২ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ৭ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
গতকাল বেলা ৩টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন এসব তথ্য জানান। তিনি জানান, পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক এমপি ও মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম ক্ষমতার অপব্যবহার করে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে সংগতিবিহীন ৮ কোটি ৮৬ লাখ ১১ হাজার টাকা নিজ ভোগদখলে রেখেছেন। এ ছাড়া তার নিজ নামে ১২ ব্যাংক হিসাবে ৬ কোটি ৮৪ লাখ টাকার সন্দেহমূলক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। এ অভিযোগে তার বিরুদ্ধে প্রথম মামলা করা হয়েছে। দ্বিতীয় মামলায় তার স্ত্রী ফিরোজা পারভীন ও শ ম রেজাউল করিমকে আসামি করা হয়েছে। ওই মামলায় তাদের বিরুদ্ধে পাবলিক সার্ভেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ৩ কোটি ৫ লাখ ৫৫ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে শ ম রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনৈতিক কার্যক্রমসহ নানাবিধ অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।
ওই অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, তার নিজ নামে বরিশালের নাজিরপুর, পিরোজপুর এবং ঢাকার বিভিন্ন স্থানে স্থাবর সম্পদ রয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকাকালীন প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন নামে প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ক্রয় এবং প্রশিক্ষণের নামে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ, একটি গাড়ি, ব্যাংকে জমা টাকা ছাড়াও তার দেশে-বিদেশে বিপুল পরিমাণ সম্পদ রয়েছে।