ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া ফিলিস্তিনি ছিটমহল গাজা পুনর্গঠনের জন্য ৫ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের মিসরীয় এক পরিকল্পনা অনুমোদন করেছেন আরব নেতারা। তবে এ প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার মিসরের রাজধানী কায়রোতে আরব নেতাদের এক জরুরি সম্মেলনে পরিকল্পনাটি অনুমোদিত হয়। গাজা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘মধ্যপ্রাচ্য রিভিয়েরা’র বিকল্প বলে মনে করা হচ্ছে এই পরিকল্পনাকে। মিসরীর পরিকল্পনায় গাজার ফিলিস্তিনিদের তাদের নিজ ভূমে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে বাস্তুচ্যুতি এড়ানো হয়েছে।
আল আরাবিয়া নিউজ জানিয়েছে, গাজার পুনর্গঠনের অর্থ জোগান দেওয়ার জন্য আরব নেতারা একটি ট্রাস্ট ফান্ড স্থাপনেও সম্মত হয়েছেন। পুনর্র্নির্মাণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে আন্তর্জাতিক চাঁদার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। সম্মেলনের চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডটিতে পুনর্র্নির্মাণ প্রকল্পটি চালিয়ে নিতে ট্রাস্ট ফান্ড ‘সব দাতা দেশ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া আর্থিক প্রতিশ্রুতি গ্রহণ’ করবে। এতে আরব নেতারা ফিলিস্তিনিদের তাদের ভূখণ্ড থেকে বাস্তুচ্যুত করার যে কোনো উদ্যোগের বিষয়ে সতর্ক করেছেন। ওই সব প্রচেষ্টাকে আঞ্চলিক শান্তির জন্য হুমকি বলে অভিহিত করেছেন তারা। সম্মেলনে নিজের বক্তৃতায় সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান বলেছেন, রিয়াদ ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার লঙ্ঘনকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করে এবং ফিলিস্তিনি সমস্যার দ্বি-রাষ্ট্রীক সমাধানকে সমর্থন করে। তিনি আরও বলেছেন, গাজার পুনর্র্নির্মাণকালে গাজাবাসীদের সেখানে রেখেই তা করতে হবে। অন্যদিকে গাজার পুনর্র্নির্মাণের সময় গাজাবাসীদের তৃতীয় একটি দেশে পুনর্বাসনের কথা বলেছে ওয়াশিংটন আর সম্ভবত স্থায়ীভাবে। মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আব্দেলাত্তি জানিয়েছেন, তার দেশ তাদের গাজা পুনর্র্নির্মাণ পরিকল্পনার জন্য আগামী শুক্রবার সৌদি আরবের জেদ্দায় ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের জরুরি সম্মেলনে যোগ দেওয়া মুসলিম দেশগুলোর কাছে সমর্থন চাইবে। -রয়টার্স