টানা তিন বছর ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের শুরু থেকেই কিয়েভকে বিপুল পরিমাণ সামরিক ও আর্থিক সহায়তা করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ওয়াশিংটনের ইউক্রেন নীতিতেও এসেছে নাটকীয় পরিবর্তন। বিরাজমান পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন কিয়েভকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বিশেষ করে কিয়েভ বড় অঙ্কের খনিজ সম্পদ সম্পর্কিত চুক্তিতে সই করতে সম্মত হওয়া সত্ত্বেও ট্রাম্প এ ব্যাপারে নেতিবাচক অবস্থান নিয়েছেন। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
খনিজ চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদেমির জেলেনস্কি ওয়াশিংটন সফরে যাচ্ছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উপস্থিতিতে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বুধবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে নিরাপত্তা গ্যারান্টি দেবে না। এ ছাড়া ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে শুক্রবার ওয়াশিংটন ডিসি সফর করবেন বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
ট্রাম্প বলেন, আমি (ইউক্রেনকে) খুব বেশি নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে যাচ্ছি না। আমরা চাই ইউরোপ এটি করুক। জেলেনস্কি এর আগে বলেছিলেন, ইউক্রেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি প্রাথমিক অর্থনৈতিক চুক্তি প্রস্তুত রয়েছে, তবে এ চুক্তিতে এখনো কোনো মার্কিন নিরাপত্তা গ্যারান্টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। যদিও রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার জন্য এমন কিছুকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে কিয়েভ।
চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার ফলাফলের ওপর চুক্তির পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে বলেও প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি কিয়েভে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন। তিনি বলেন, চুক্তিটি একটি দুর্দান্ত সাফল্য হতে পারে এবং বড় সাফল্য নির্ভর করছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে আমাদের কথোপকথনের ওপর। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, সম্ভাব্য এ চুক্তিটিতে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণ-মাত্রায় আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য মার্কিন সহায়তার ক্ষতিপূরণ হিসেবে ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার দেওয়া হবে।
হোয়াইট হাউস মহাকাশ, প্রতিরক্ষা এবং পারমাণবিক শিল্পে ব্যবহৃত খনিজগুলোর বিশাল ভাণ্ডারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার জন্য কিয়েভের ওপর ব্যাপক চাপ প্রয়োগ করেছে। ট্রাম্পের কাছ থেকে শক্তিশালী সমর্থন নিশ্চিত করার জন্য ইউক্রেনের প্রচেষ্টার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এ চুক্তি। অন্যদিকে ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধের দ্রুত সমাপ্তি চান ট্রাম্প।
ট্রাম্প বুধবার বলেন, তিনি এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্র কিয়েভের লাভজনক ‘রেয়ার আর্থ’ খনিজের ওপর বস্তুত অধিকার পাবে। এর ফলে রাশিয়ার তিন বছরব্যাপী আগ্রাসী যুদ্ধে ওয়াশিংটন ইউক্রেনকে যে অস্ত্র পাঠিয়েছে তার মূল্য পুষিয়ে নেবে ওয়াশিংটন।