শ্রীলঙ্কার পুলিশ তাদের পলাতক প্রধানকে খুঁজে বের করতে বৃহস্পতিবার জনসাধারণের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছে। এক পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর থেকেই তিনি নিখোঁজ রয়েছেন।
পুলিশের মুখপাত্র বুদ্ধিকা মনাটুঙ্গা জানিয়েছেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) দেশাবন্দু তেন্নাকোনের সন্ধানে কয়েকটি বিশেষ ইউনিট মোতায়েন করা হলেও তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
কলম্বোয় বৃহস্পতিবার তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা জনগণকে অনুরোধ করছি তার অবস্থান সম্পর্কে যে কোনো তথ্য জানাতে। আমরা এটাও স্পষ্ট করে বলতে চাই, যদি কেউ তাকে আশ্রয় দেন, তবে তা বিচারপ্রক্রিয়া ব্যাহত করার অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং তিনি শাস্তির মুখে পড়বেন।’
মনাটুঙ্গা স্বীকার করেন, নিজের পুলিশ প্রধানকে খুঁজে বের করতে না পারা বাহিনীর ওপর জনসাধারণের আস্থা নষ্ট করছে।
এদিকে তেন্নাকোন যেন দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন, সেজন্য তার বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। মনাটুঙ্গা বলেন, ‘এটি অত্যন্ত গুরুতর বিষয় এবং তাকে গ্রেফতারে আমরা আরও তৎপর হয়ে কাজ করছি।
আইন সম্পর্কে সচেতন হিসেবে আইজিপির উচিত ছিল আদালতের নির্দেশ মেনে আত্মসমর্পণ করা।’
২০২৩ সালে এক হোটেলে অবৈধভাবে অভিযানের অনুমোদন দেওয়ার অভিযোগে গত সপ্তাহে এক ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তেন্নাকোনকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। তিনি কলম্বো থেকে একটি দল পাঠিয়ে দক্ষিণ উপকূলীয় শহর ওয়েলিগামার এক হোটেলে মাদকবিরোধী অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে স্থানীয় পুলিশ এ সম্পর্কে কিছু জানত না।
ঘটনাস্থলে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হলে এক পুলিশ সদস্য নিহত ও আরেকজন গুরুতর আহত হন। তবে অভিযানে কোনো মাদক উদ্ধার হয়নি।
তেন্নাকোন ২০২৩ সালের নভেম্বরে বিতর্কিতভাবে পুলিশের প্রধান হিসেবে নিয়োগ পান। তবে তার নিয়োগ সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করা হয়। পরে মামলার চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত গত জুলাইয়ে তাকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন আদালত।
অন্যদিকে একটি পৃথক মামলায় দেশটির সর্বোচ্চ আদালত রায় দিয়েছিলেন, তেন্নাকোন পুলিশ হেফাজতে থাকা এক ব্যক্তির যৌনাঙ্গে মেন্থল বাম ঘষে তাকে নির্যাতন করেছিলেন। আদালত ভুক্তভোগীকে পাঁচ লাখ শ্রীলঙ্কান রুপি ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিলেও সে সময় সরকার তার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
বিডি প্রতিদিন/আরাফাত