রমজানুল মুবারকের শেষ ১০ দিনের অন্যতম একটি আমল এতেকাফ করা। ‘রসুলুল্লাহ (সা.) আমরণ রমজানের শেষ দশক এতেকাফ করেছেন। অতঃপর তাঁর বিবিগণ এতেকাফ করেছেন। (বুখারি, মুসলিম)।
এক বছর তিনি এতেকাফ করতে পারেননি, পরবর্তী বছর ২০ দিন তিনি এতেকাফ করেন। (তিরমিযি)। রসুলুল্লাহ (সা.) ধারাবাহিকভাবে এতেকাফ করার কারণে এতেকাফের প্রতি তাঁর গুরুত্ব বোঝায়। তাই এতেকাফ সুন্নতে মুয়াক্কাদা। এতেকাফ পাপমুক্ত থাকা ও শবেকদর পাওয়ার সহজ উপায়। আর এতে রয়েছে মহানবী (সা.) এর ধারাবাহিক আমলের অনুসরণ। মহল্লার কোনো একজন এতেকাফ করলে সবার দায়িত্ব আদায় হয়ে যাবে। অন্যথায় সবাই গুনাহগার হবে। এতেকাফ একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, তাই টাকা-পয়সার বিনিময়ে কেউ এতেকাফ করলে নিজেও কোনো সওযাব পাবে না, মহল্লাবাসীর দায়িত্বও আদায় হবে না। এতেকাফের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ রুকন হলো, শরিয়ত স্বীকৃত প্রয়োজন ব্যতীত পুরো সময়টা মসজিদের সীমানায় অবস্থান করা। এ ছাড়া সামান্য সময় বাইরে অবস্থান করলে এতেকাফ নষ্ট হয়ে যাবে। শরিয়তস্বীকৃত প্রয়োজন হিসেবে, পানাহার, প্রশ্রাব-পায়খানা, ওজু এবং ফরজ গোসল ইত্যাদির ব্যবস্থা যদি মসজিদে না থাকে তাহলে এসব প্রয়োজনে এবং মসজিদের ভিতরে আজানের ব্যবস্থা না থাকলে আজানের জন্য ও মসজিদে জুমার ব্যবস্থা না থাকলে অন্য মসজিদে জুমা আদায়ের জন্য এতেকাফ অবস্থায় বের হওয়া যাবে। তবে এ সময় অপ্রয়োজনীয় কথা ও কাজে লিপ্ত হলে এতেকাফ নষ্ট হয়ে যাবে।
রোজা অবস্থায় এই সুন্নতে মুয়াক্কাদা এতেকাফ পালন করতে হয়। এতেকাফকারী যদি রোজা ভেঙে ফেলে তাহলে তার ইতেকাফ নষ্ট হয়ে যাবে। ইতেকাফ অবস্থায় রাতে বা দিনে স্বামী-স্ত্রী সহবাস হলে এতেকাফ নষ্ট হয়ে যাবে। নিজে অথবা মাতা-পিতা ও সন্তানের জরুরি চিকিৎসার জন্য এবং নিজের আত্মরক্ষা বা বিপদগ্রস্ত কারও প্রাণ রক্ষার প্রয়োজনে এতেকাফ ভেঙে ফেলা যাবে। শরিয়তের প্রয়োজনে যেমন- সাক্ষ্য প্রদান করা অথবা সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে মসজিদ ত্যাগ করতে বাধ্য হলে, এতেকাফ ভেঙে মসজিদ থেকে বের হওয়ার অনুমতি আছে।
এতেকাফ কোনো কারণে নষ্ট হয়ে গেলে এই দিনের পরবর্তী সময় এবং অবশিষ্ট দিনগুলো এতেকাফ অবস্থায় অবস্থান করতে পারে। এতে সুন্নতে মুয়াক্কাদা আদায় না হলেও বিনিময় আশা করা যায়। আর যে দিনগুলো নষ্ট হয়েছে ওই দিনগুলো কাজা করা ওয়াজিব। পুরো ১০ দিন কাজা করতে হবে না। এক দিনের জন্য কাজা হিসেবে রমজান মাসের কোনো দিন সূর্যাস্ত থেকে পরদিন সূর্যাস্ত পর্যন্ত কাজা করার নিয়তে এতেকাফ করতে হবে। রমজান মাসে সম্ভব না হলে অন্য মাসেও এতেকাফ কাজা করা যাবে।
লেখক : গবেষক, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, বসুন্ধরা, ঢাকা।