গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেছেন, সরকারে থেকে দলীয় সরকারের অধীনে শেখ হাসিনা নির্বাচন করতে চাওয়ায় তার বিরুদ্ধে আমরা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছিলাম। এখন এই সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে থেকে যদি ছাত্ররা দল গঠন করে, সেটা সরকারি দল হবে। তাহলে আওয়ামী লীগ এবং নতুন রাজনৈতিক দল-জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মধ্যে পার্থক্য কোথায়? সরকারের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে এবং জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে অবিলম্বে দুই ছাত্র উপদেষ্টাকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। গতকাল রাজধানীতে গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ডাকসুর এই সাবেক ভিপি। তিনি জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে গণ অভ্যুত্থানের অংশীজনদের নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন, রাষ্ট্র সংস্কার শেষ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন, গণহত্যার বিচার এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন।
নুরুল হক নুর বলেন, ছাত্রনেতারা সরকারে থাকায় সরকারের নানা কাজে বিলম্ব হচ্ছে। এ জন্য ছয় মাসেও সরকারের কোনো উন্নতি নেই। অবশ্য আমরা চাই তারা (জাতীয় নাগরিক পার্টি) ভালো রাজনীতি করুক। কিন্তু সরকারে থেকে সেটা সম্ভব নয়। একজন দল গঠন করেছেন, তিনি পদত্যাগ করেছেন, বাকি দুজন সরকারে আছেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ছাত্র উপদেষ্টাদের তদারকি কমিটি রয়েছে। সরকারের সঙ্গে কাজে এই ছাত্র উপদেষ্টাদের আজ্ঞাবহ নেক্সাস (যোগসূত্র) তৈরি হয়েছে। আন্দোলনের পরিচিত মুখ থেকে যদি ছাত্ররা সরকারে অংশগ্রহণ করে রাজনৈতিক দল গঠন করে, তবে তা সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন করতে পারে।
গণ অভ্যুত্থানের ভূমিকাকে ভুলে গিয়ে একটি নির্দিষ্ট বলয়কেন্দ্রিক সরকার গঠন করা হয়েছে দাবি করে নুর বলেন, এটা জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। এতে গণ অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে যে জাতীয় ঐক্য তৈরি হয়েছিল, আজ তাতে ফাটল ধরেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে শহীদ আবু সাঈদের পরিবারকে আমন্ত্রণ না জানানো অনভিপ্রেত। গুটিকয়েক ছাত্রনেতা এখন সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করছে এবং প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় অযাচিত হস্তক্ষেপ করছে। এতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ জনগণের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হচ্ছে। নতুন দলের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানেও জেলা প্রশাসকের নোটিশে ঢাকার প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের মতো বিষয় দেখা গেছে। জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করেও ঢাকায় এসেছে ছাত্র-জনতা। গাড়ি সরবরাহে মালিক সমিতি ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে। এগুলো সম্পূর্ণ অনৈতিক ও অগ্রহণযোগ্য।
গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচার এবং আহতদের চিকিৎসার প্রসঙ্গে নুর বলেন, ‘এনাফ ইজ এনাফ। যথেষ্ট হয়েছে, আমরা আর চুপচাপ থাকব না। গত ছয় মাসে গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের অল্প কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আন্দোলনে আহত ও নিহতদের ক্যাটাগরিতে বৈষম্য করা হয়েছে। গত ছয় মাসে বিভিন্ন কমিউনিটির যৌক্তিক দাবি-দাওয়া আমলে নেওয়া হয়নি। সংস্কারের কোনো বাস্তবায়ন দেখছি না। পুরনো ধারায়ই চলছে দেশ। গণঅধিকার পরিষদ আগামী জাতীয় নির্বাচনে ৩০০ আসনে লড়বে বলে জানান তিনি।