অবশেষে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের নতুন রাজনৈতিক দল। ২৮ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণসংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে হবে আত্মপ্রকাশের অনুষ্ঠান। বেলা ৩টা থেকে শুরু হবে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম। গতকাল রাজধানীর বাংলামোটরে জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলন থেকে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনের সঞ্চালনা করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক আবদুুল হান্নান মাসউদ। সংবাদ সম্মেলন থেকে জানানো হয়, নতুন রাজনৈতিক দলের নাম, প্রতীক এবং সাংগঠনিক কাঠামো এখনো ঠিক করা হয়নি। আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে এগুলো উন্মোচিত করা হবে। জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আরেকটি নতুন অধ্যায় রচিত হতে যাচ্ছে। সংসদ ভবনকে এযাবৎকাল কিছু মানুষের ব্যক্তিগত, গোষ্ঠীগত ও দলীয় পলিসি মেকিংয়ের জায়গা বানিয়ে রাখা হয়েছিল। দেশের ১৮ কোটি মানুষের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতীক সেই সংসদ ভবনকে সামনে রেখে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি ঐক্যবদ্ধভাবে রাজনৈতিক দলের ঘোষণা দেবে। জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘আপনার চোখে নতুন বাংলাদেশ শীর্ষক কর্মসূচিতে দুই লাখের বেশি মানুষের মতামত গ্রহণ করেছে। ছাত্র, পেশাজীবী, কৃষক, শ্রমিক, রিকশাচালক, দিনমজুর, ব্যবসায়ী, গৃহকর্মীসহ সব শ্রেণি, পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাদের তাদের মূল্যবান মতামত জানিয়েছেন। দেশের পরিবর্তনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ, জবাবদিহি নিশ্চিতকরণের কথা বলেছে। সামাজিক ন্যায়বিচার : সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করা অভিপ্রায় জানিয়েছে। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি : সব ধরনের বৈষম্য হ্রাস ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার দিকের গুরুত্ব আরোপ করেছে। তারা চায় সব ধরনের রাষ্ট্রীয় সংস্কার নিশ্চিত করা হোক। সেবার মান উন্নয়ন : রাষ্ট্রীয় সব সেবার মান উন্নত এবং জনবান্ধব করা। নারী ও তরুণদের ক্ষমতায়নে কার্যকর নীতি গ্রহণ করা হবে। নতুন দলের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক সহিংসতা, দখলদারি ও মাফিয়া কালচার বন্ধ করা হবে।’ দলের নাম সম্বন্ধে তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবকে প্রাধান্য দিয়ে রাজনৈতিক দলের নাম নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা এসেছে। বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে সংযুক্ত নাম প্রস্তাবিত হয়েছে। গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের প্রতিফলন ঘটে এমন নামের প্রতি বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। কিছু নামের মধ্যে আছে ‘জনতার দল’ ‘নতুন বাংলাদেশ পার্টি’ ‘বিপ্লবী দল’ ‘নাগরিক শক্তি’ ‘বাংলাদেশ বিপ্লবী পার্টি’ ও ‘রিপাবলিক পার্টি’। দলের প্রতীক নিয়ে তিনি বলেন, নতুন দলের প্রতীক হতে হবে জনগণের আকাক্সক্ষার প্রতিফলন অনুযায়ী। সংগ্রাম, উন্নয়ন ও ঐক্যের প্রতীকী চিত্র ফুটিয়ে তোলা হবে। প্রস্তাবিত প্রতীকগুলোর মধ্যে আছে বিভিন্ন ‘জাতীয় প্রতীকের নাম’ ‘উদীয়মান সূর্য’ ‘কলম’ ‘বই’ ‘মুষ্টিবদ্ধ হাত’ ইত্যাদি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখপাত্র সামান্তা শারমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব, সহ-মুখপাত্র মুশফিক উস সালেহীন ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যসচিব আরিফ সোহেল।