টিভি নাটকের জনপ্রিয় ও ব্যস্ত অভিনেতা আরফান আহমেদ। নিজস্ব ঢং ও বৈচিত্র্যময় অভিনয়ের সুবাদে ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা তৈরি হয়েছে তাঁর। অভিনয়ের পাশাপাশি লেখক হিসেবে সম্প্রতি বইমেলায় এসেছে তাঁর বই। তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন- পান্থ আফজাল
‘আমার একটু কথা ছিল’...
জি বলুন! হাহাহা... আসলে এ বইমেলায় আসা ‘আমার একটু কথা ছিল’ হচ্ছে আমার বইয়ের নাম। অবশ্য সলো হিসেবে এটি আমার প্রথম বই, তবে আগেও কবি হিসেবে জয়েন্ট ভেঞ্চারে একটি কবিতার বই বের হয়েছিল। নাম ছিল- ‘বিদ্রোহ প্রেম’। এরমধ্যে ছয়টি কবিতা ছিল আমার। সেটা ১৯৯৪ সালের কথা। তখন ফার্স্ট ইয়ারে পড়ি। সে সময় খরচ হয়েছিল প্রায় ১৩ হাজার টাকা। এ বই বের করার মূল প্রেরণায় ছিল আমার বোন শিউলি আফসার। যাই হোক, দীর্ঘ ৩০ বছর পর শব্দশিল্প প্রকাশনী মনে করছে যে, আমার লেখা কোনো বই পাঠক-ভক্তদের জন্য থাকুক। প্রকাশক তো তিন বছর ধরেই আমাকে বলছেন, যেন আমার সব সহশিল্পী, ডিরেক্টরদের সঙ্গে আমার অভিজ্ঞতা আর জার্নি বই আকারে সামনে আনি। বিটিভি ও মাঝে চার-মাস মাস বিদেশে থাকা জার্নি নিয়েও যেন লিখি। তবে এত বছরে জার্নি তো সংক্ষিপ্ত পরিসরে আনা সম্ভব নয়। তাই কিছু প্রিয় মানুষকে নিয়ে লিখেছি একখন্ডে। বাকিগুলো এক এক করে আসবে।
আরফান আহমেদ কেমন ধরনের মানুষ?
আমি খুবই সিম্পল মানুষ। অন্য কিছু চিন্তা করি না। এই যে গাড়ি-বাড়ি আছে যা, অতটুকুই। সর্বদা মনে করি, কপালে থাকলে সব হবে। না হলে কিছুই হবে না। হওয়া-না হওয়া নিয়ে আফসোস নেই।
আজ শুটিং নেই?
অরণ্য আনোয়ারের নির্মাণে একটি সিঙ্গেল নাটকের শুটিং করছি জয়দেবপুরে। অনেক দূর আমার জন্য। তবে নাটকটির নাম কিন্তু একটু ট্রেন্ডি, ‘ধাপ্পাবাজ হেনা’। আমি অরণ্যদার কাজ পছন্দ করি। তাই এ কাজটিও করছি। একটি ইউটিউব প্ল্যাটফরমে যাবে।
আর ঈদের কাজ?
আমার কাছে ঈদ ভার্সেস কাজ বলে কিছু নেই। ঈদ বা উৎসব মনে করে কাজ করা হয় না। যেগুলো করি বা করছি সেগুলো যদি নির্মাতা বা প্রযোজক মনে করে ঈদ পারপাসে প্রচার করবে, তো করুক। তবে চ্যানেলে এখন মানুষ আর নাটক দেখে না। এসব নিয়ে অবশ্য চ্যানেলগুলোর কোনো মাথাব্যথা নেই। এখন বিভিন্ন অডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানই নাটক বানাচ্ছে বা তারকাদের নিজস্ব চ্যানেল প্রযোজনা করছে। এরা ব্যবসা বুঝতে পেরেছে। তাই সফল।
কিন্তু এর কারণে সিন্ডিকেট বাড়ছে, সিনিয়র শিল্পীদের তো কাজ কমছে, তাই না?
সেটা ঠিক। তবে এর মধ্যেও আমাদের মতো শিল্পীরা কিছু করে খাচ্ছে, তাই না? আমরা তো এখন টেস্ট প্লেয়ার। আমাদের এখন সিঙ্গেল নাটকে নয়, সিরিজের জন্য ভাবা হয়। যদিওবা সিঙ্গেলে কাজ করি তাও ভিলেন হিসেবে বা সেক্রিফাইস আর্টিস্ট বা প্রবীর মিত্রের মতো চরিত্রের জন্য। আসলে আমরা সেটে থাকলে সবাই ইনসিকিউরিটিতে ভোগেন, কেন জানি না!
অস্তিত্ব সংকটে ভুগেছেন?
অস্তিত্ব সংকটে কখনোই ভুগিনি। তবে যারা থিয়েটার করে এসেছে বা নতুন অভিনেতা তারা কী খাবে? আমরা তো কিছু করেকেটে খেতে পারছি। বেঁচে আছি। কিন্তু বাকিদের কী হবে? সেটাই প্রশ্ন। আর যারা ওয়েব করছেন তারা অন্য ঘরানার মনে করেন নিজেকে। তারা আমাদের ইউটিউবে বিশ্বাস করেন না।
আক্ষেপ রয়েছে?
কোনো আক্ষেপ নেই। মানুষের ভালোবাসার জায়গায় এখনো আছি।
এটাইবা কম কীসে!