প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদপুত্র নুহাশ হুমায়ুন, যিনি এ সময়ে শোবিজ মিডিয়ায় বেশ আলোচিত। যার বৈচিত্র্যময় নির্মাণে রয়েছে নিজস্বতা। এ চিত্রনাট্যকার ও নির্মাতা কাজ করে পেয়েছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিও। সেসব নিয়ে কথোপকথনে - পান্থ আফজাল
আপনার বর্তমান ব্যস্ততা কী নিয়ে?
কিছু কাজ করছি। সেগুলো এখনই বলছি না। পরে জানতে পারবেন।
চলচ্চিত্র নির্মাণবিষয়ক কর্মশালা পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন। কেমন হলো সব?
ভালোই তো হয়েছে। চলচ্চিত্র নির্মাণকে বিকেন্দ্রীকরণ এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবানদের তুলে আনার লক্ষ্যে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে শুরু হয় ‘চলচ্চিত্র নির্মাণবিষয়ক কর্মশালা’। দেশের আটটি বিভাগের মধ্যে ঢাকা বিভাগে অনুষ্ঠেয় পাঁচ দিনব্যাপী এ কর্মশালা হয়। যেটির পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছি। সেখানে অংশগ্রহণকারীদের চলচ্চিত্র নির্মাণের নানা দিক, যেমন গল্প বলা, চিত্রায়ণ, প্রযোজনা, সম্পাদনা, চলচ্চিত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা সম্পর্কে হাতে-কলমে শেখানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক উৎসবে আপনার নির্মিত সিরিজ...
কিছুদিন আগে ‘পেট কাটা ষ’র দ্বিতীয় মৌসুম ‘২ষ’ সিরিজটি সাউথ বাই সাউথ ওয়েস্ট চলচ্চিত্র উৎসবে এপিসোডিক ক্যাটাগরিতে প্রদর্শিত হয়। সবার কাছ থেকে ভালোই এপ্রিসিয়েশন পেয়েছি। এই প্রাপ্তিতে আমি সত্যিই খুবই আনন্দিত। এ জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞ।
এর আগেও তো আপনার কাজ আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত হয়েছিল...
কিছু কাজ করার চেষ্টা করেছি। আমার নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মশারি’ ইতোমধ্যে বেশকিছু আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিয়েছে। বেশ কয়েকটি সম্মাননা স্মারকও অর্জন করেছে। এ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের ওটিটি প্ল্যাটফরম হুলুতে মুক্তি পায় ‘ফরেনারস অনলি’ সিরিজটি। ‘ইতি তোমারই ঢাকা’ বুসানে প্রদর্শিত হয়। এখন নেটফ্লিক্সে দেখা যাচ্ছে।
বাবা খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক-নির্মাতা। সেই হিসেবেই কি নির্মাতা হওয়ার ইচ্ছে ছিল?
দেখেন ছোটবেলা থেকেই তো আমি এসব বিষয়ের মধ্যে বড় হয়েছি। যখন একদম ছোট ছিলাম তখনই দেখতাম শুটিং, নায়ক-নায়িকা এসব বিষয় নিয়ে আলাপ আলোচনা। আমি যখন ক্লাস সিক্স কী সেভেনে পড়ি তখন মা আমাকে একটা ডিজিটাল ক্যামেরা কিনে দিয়েছিলেন। তখন কোনো বিষয়ের ওপর ছোট্ট ছোট্ট গল্পের নাটক বানাতাম। যেগুলো বন্ধু মহল থেকে শুরু করে পরিবারের সবাই বেশ প্রশংসা করত। বলতে গেলে তখন থেকেই নির্মাতা হওয়ার বিষয়টি মাথায় আসে।
কাজের ক্ষেত্রে বাবার অনুপ্রেরণা নিয়ে জানতে চাই...
এ বিষয়ে অনেকেই প্রশ্ন করেন। অনেককেই বলতে শুনেছি বাবার মতো এ রকম করা উচিত, তার মতো ওইটা করা উচিত ওটা করা উচিত। আমার কথা হচ্ছে, বাবা তার মতো একটা ট্র্যাকে কাজ করেছেন। তার সময়কার সামাজিক মূল্যবোধ, মানুষের মধ্যকার সম্পর্ক ছিল এক রকম। এখন এসে এই জেনারেশনে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। তাই আমার মতে, আমার কাজ এখনকার সময়ের প্রতিনিধিত্ব করবে। আমার কাজটা আমারই মতো হবে। আমার গতি এবং আমার রুচির মতোই হবে। আরেকটি কথা না বললে নয় সেটি হলো তখনকার কাজের জায়গাটা একরকম ছিল। আর এখন আরেকরকম।