কেউ সাগরের নোনাজলে গোসল করছেন। আবার কেউ ঘোড়ার পিঠে চড়ে সৈকতের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আবার কেউ চটপটি-ফুচকা খেতে ভিড় করছেন ছোট ছোট দোকানে। পড়ন্ত বেলায় বিলাসী পর্যটকেরা সৈকতের বেঞ্চিতে বসে সমুদ্রের প্রকৃতি দেখছিলেন। তরুণদের বালিয়াড়িতে ফুটবল খেলায় মেতে থাকার দৃশ্য, রং বেরঙের ঘুড়ি ওড়ানো ছিল মনোমুগ্ধকর। একই সাথে ভোজন রসিকদের ভিড় ছিল বারবিকিউর দোকানগুলোতে। সরকারি টানা নয় দিনের ছুটিকে কেন্দ্র করে ঈদ উৎসব উদযাপনে এ সকল পর্যটকের আগমন ঘটে সাগর কন্যা কুয়াকাটায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জিরো পয়েন্ট-সংলগ্ন পূর্ব-পশ্চিম দিকের অন্তত চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে হাজার হাজার পর্যটক গোসল করছেন। একই সাথে সৈকতের বালিয়াড়ীতে হইহুল্লোরে মেতেছেন অনেকে পর্যটক। নজরুল ইসলাম নামের এক পর্যটক বলেন, প্রচন্ড গরমের কারণে তার মতো বেড়াতে আসা অনেকেই অস্বস্তিতে পড়েছেন। ফলে বেলা বাড়ার সাথে সাথে পানিতে নেমে পড়েছেন তারা। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হলেও নোনাজল ছেড়ে উঠছিলেন না অনেকে। এছাড়া লেম্বুরচর, শুঁটকিপল্লি, গঙ্গামতী সৈকত, মিশ্রিপাড়া বৌদ্ধমন্দির, রাখাইন মহিলা মার্কেট, ঝিনুক মার্কেটসহ আকর্ষণীয় সব স্পটে পর্যটকের ব্যাপক আনাগোনা লক্ষ করা যায়। পর্যটকদের আগমনের কারণে কুয়াকাটার হোটেল মোটেল ও খাবার হোটেলে বিক্রিও বেশ ভালো হয়েছে। আগতদের নিরাপত্তায় তৎপর রয়েছে পুলিশ সদস্যরা।
পর্যটক বাহাউদ্দীন জানান, দক্ষিণাঞ্চলবাসীর জন্য কুয়াকাটা আশীর্বাদস্বরূপ। এটি দেশের একটি অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র। মূলত সমুদ্রের টানেই এখানে বারবার ছুটে আসি।
ব্যবসায়ী আলা আমিন জানান, গত দুই দিন ধরে ব্যাপক পর্যটকের চাপ রয়েছে। একই সাথে বিক্রি ভালো হচ্ছে। ছোট দোকানের চেয়ে বড় দোকানে বিক্রি বেশি হচ্ছে।
কুয়াকাটা ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন কুটুম’র সাধারণ সম্পাদক হোসাইন আমির বলেন, এবারের ঈদ ও বৈশাখের ছুটিকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের ব্যাপক চাপ রয়েছে। বুকিং রয়েছে শতভাগ হোটেল মোটেল। এতে প্রত্যেক ব্যবসায়ী আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।
কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ রিজিয়নের সহাকারী পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্য, থানা পুলিশ, নৌ পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন। এছাড়া বিভিন্ন পর্যটন স্পটে ট্যুরিস্ট পুলিশ টহলে রয়েছে।
বিডি প্রতিদিন/এএ