ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় প্রকাশ্য দিবালোকে দেশীয় অস্ত্র ঠেকিয়ে একটি মাইক্রোবাসে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। যানজটে আটকে থাকা অবস্থায় ৩-৪ জন ছিনতাইকারী মাইক্রোবাসে হামলা চালিয়ে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেয়। এ সময় ছিনতাইকারীদের বাধা দিতে গিয়ে আহত হয়েছেন মাইক্রোবাসের দুই যাত্রী।
আহতরা হলেন তাহেরা বেগম (৬৫) ও আব্দুস সালাম (১৮)। তারা সবাই নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার বাসিন্দা।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মাইক্রোবাস যাত্রী হানিফ মিয়া বলেন, "আমার ছোট ভাই হুমায়ুন কবির সৌদি আরব প্রবাসী। আজ তিনি দেশে ফিরছেন, তাই আমরা এয়ারপোর্ট থেকে তাকে আনতে যাচ্ছিলাম। রাত সাড়ে তিনটার দিকে আমরা সোনাইমুড়ি থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেই। এ সময় মাইক্রোবাসে আমরা চারজন ছিলাম, চালকসহ। শুক্রবার (২৮ মার্চ) সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে গজারিয়ার ভিটিকান্দি এলাকায় পৌঁছালে ঢাকাগামী লেনে একটি বাস দুর্ঘটনার শিকার হয়, ফলে সেখানে যানজটের সৃষ্টি হয়।
"যানজটে আটকে থাকার সময় হঠাৎ করে ৩-৪ জন যুবক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের গাড়িতে হামলা করে। তারা আমাদের মারধর করে নগদ ২৮ হাজার টাকা ও তিনটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। ডাকাতদের হামলায় আমার মা তাহেরা বেগম ও ভাগিনা আব্দুস সালাম আহত হয়েছে। আমরা এই ঘটনায় গজারিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।"
এ ঘটনায় আহত আব্দুস সালাম বলেন, "দিবালোকে মহাসড়কে এমন ছিনতাই হতে পারে, এটা আমাদের কল্পনাতেও ছিল না। সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে অস্ত্রের মুখে আমাদের জিম্মি করে টাকা, মোবাইল, স্বর্ণালঙ্কারসহ সব কিছু ছিনিয়ে নেয়। আমি প্রতিবাদ করায় একজন আমাকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে দিতে চেয়েছিল, আমি সরে গেলে সেটা আমার পাঞ্জাবিতে লাগে।"
আহত তাহেরা বেগম বলেন, "ছিনতাইকারীরা আমার ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনিয়ে নিতে চাইলে আমি বাধা দেই। তখন তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে মারধর করে। একপর্যায়ে আমি বাধ্য হয়ে ব্যাগ তাদের দিয়ে দেই।"
বিষয়টি নিয়ে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আনোয়ার আলম আজাদ বলেন, "ঘটনার খবর আমরা পেয়েছি। ভুক্তভোগীদের থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
বিডি প্রতিদিন/আশিক