ফরিদপুর সদর উপজেলা ও বোয়ালমারীর সীমান্তবর্তী স্থান হচ্ছে চাঁদপুর ইউনিয়নের ভাটদি বাজার। এই বাজারটিকে ঘিরেই এই অঞ্চলের মানুষ বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্য করে আসছে দীর্ঘকাল ধরে। বর্তমানে এ বাজারটির ব্যবসায়ীরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে এ বাজারটিতে মাদক ও জুয়ার অভয়ারন্য হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছে।
১০/১২ জনের একটি শক্তিশালী গ্রুপ বাজারটিতে মাদক বেচাকেনা ও জুয়ার আসর বসিয়ে আসছে। মাদক ও জুয়ার কারণে বাজারটির ব্যবসায়ীরা নিয়মিত চাঁদা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ও মাদক বিক্রিতে বাঁধা দেওয়ায় হামলার শিকার হয়েছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী। বর্তমানে বাজারের ব্যবসায়ী ও বাজারে আসা লোকজন আতঙ্কগ্রস্ত রয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভাটদি বাজারটি কয়েক বছর আগেও বোয়ালমারী উপজেলার অর্ন্তগত ছিলো। সীমানা বর্ধিতকরণের কারণে চাঁদপুর ইউনিয়নটি বর্তমানে সদর উপজেলার মধ্যে রাখা হয়। সদর উপজেলায় আসার পর থেকেই এখানকার ব্যবসায়ীরা চরম নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য করে আসছে। সদর উপজেলার শেষ প্রান্তে হবার কারণে বাজারটিতে পুলিশের নজরদারি কম থাকায় মাদক ব্যবসায়ী ও জুয়ারীরা নিরাপদ স্থান হিসাবে বেছে নেয় এই বাজারটি।
বাজারে ইয়াবা, গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদক বিক্রি করছে একটি চক্র। এ চক্রটির সদস্য সংখ্যা ১০/১২ জনের মতো। আওয়ামী লীগ আমলে এক মন্ত্রীর ছত্রছায়ায় থেকে নিরাপদে মাদক বিক্রি ও নিয়মিত জুয়ার আসর বসাতো চক্রটি। বর্তমানে এ চক্রটি ভোল পাল্টে বিএনপির এক নেতার নাম ভাঙ্গিয়ে এখনও বহাল তবিয়তে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাজারের ব্যবসায়ীরা।
নামপ্রকাশ না করার শর্তে বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, এ চক্রটি এতটাই শক্তিশালী যে তাদের বিরুদ্ধে কথা বলাতো দূরের কথা, মাদক বিক্রি নিয়েও কোনও কথা বলা যায়না। বিভিন্ন স্থান থেকে মোটরসাইকেলে করে অনেকেই আসেন মাদক নিতে। আর মাঝে মধ্যেই বিভিন্ন অজুহাতে ব্যবসায়ীদের দিতে হয় টাকা। বাজারের প্রবীন এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের কারণে আমরা অতিষ্ঠ।
সরেজমিন ভাটদি বাজারে গিয়ে অনুসন্ধানে জানা গেছে, সজিব, মিলন, ইমন, সুজন হচ্ছে মাদক ব্যবসার গডফাদার। মূলত তারাই ভাটদি বাজারের মাদক ও জুয়ার আসর নিয়ন্ত্রণ করেন। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদকের মামলা রয়েছে। বাজারে প্রায় তিন শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকেরা নিয়মিত চাঁদা দিতে বাধ্য থাকেন। এ চক্রটি এতটাই শক্তিশালী যে তাদের বিরুদ্ধে কেউ কোনও কথা বলতে সাহস পায়না।
বাজারের একাধিক ব্যবসায়ীর সাথে কথা হলে অনেকেই মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়ে কোন কথা বলতে নারাজ। তারা বলছেন, আপনি আমার সাথে কথা বলেছেন এটিও আমাদের জন্য কাল হতে পারে। কারণ ওরা অনেক শক্তিশালী। ওদের হাতে অনেক ব্যবসায়ী নাজেহাল হয়েছেন। ভাটদি বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিজেও মাদক ব্যবসায়ীদের চাঁদা না দেওয়ায় হামলার শিকার হয়েছেন।
এ বিষয়ে বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদত মীর রমজান ইসলাম বলেন, পুরো বাজারটি এখন মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রনে। তাদের বাধা দেবার ক্ষমতা যেন কারও নেই। আমি মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছি। আমার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।
তিনি জানান, আমি তাদের টাকা না দেওয়ায় আমাকে গত ১১ মার্চ মাদক ব্যবসায়ী সজিব, মিলনের নেতৃত্বে আমার উপর হামলা চালানো হয়। তারা আমাকে বেদমভাবে পিটিয়ে মারাত্বক ভাবে আহত করে। আমি প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে একটি দোকানের মধ্যে ঢুকে পড়ি। সেখানে গিয়েও তারা আমাকে মারধর করে। এসময় তারা ওই দোকানের মালামাল ভাঙচুর করে। আমার কাছে থাকা বেশ কিছু টাকা নিয়ে যায় মাদক ব্যবসায়ীরা।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ