বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাশে আগত নারী ও শিশু বিচার প্রার্থীদের জন্য কাউন্সিলিং ও শিশু কিডস কর্ণার উদ্বোধন করা হয়েছে। বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ মো. সাইফুর রহমান বুধবার সকালে এই কর্ণার উদ্বোধন করেন।
এ সময় নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ লায়লাতুল ফেরদৌসসহ অন্যান্য বিচারকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, বরগুনার নারী শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ লায়লাতুল ফেরদৌস ২০২৪ সালের পহেলা ডিসেম্বর বরগুনায় যোগদান করার পর বিচার কাজ শুরু করেন। ওই ট্রাইব্যুনালে প্রায় তিন হাজার মামলা রয়েছে। আগত বিচার প্রার্থী নারীদের সঙ্গে ছোট ছোট শিশুও থাকে। তারা প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা আদালত প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে থাকে। বসার জন্য ভালো জায়গা নেই। তাদের কষ্টের কথা চিন্তা করে গণপূর্ত বিভাগের অর্থায়নে বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের পূর্ব পাশে নারী ও শিশু কাউন্সিলিং কিডস কর্ণার তৈরী করা হয়। এই কর্ণারে রয়েছে গ্লাসের তৈরী দুটি কক্ষ, সুপেয় পানি, বাথরুম ও পর্যাপ্ত বসার জায়গা। রয়েছে শিশুদের জন্য খেলার সরঞ্জামও।
উদ্বোধক জেলা ও দায়রা জজ মো. সাইফুর রহমান বলেন, নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছেন। এতে করে আগত নারীর সঙ্গে থাকা শিশু ও শিশু বিচার প্রার্থীরা স্বস্তি পাবেন।
নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ লায়লাতুল ফেরদৌস বলেন, বরগুনায় যোগদানের পর থেকে দেখছি বিচার প্রার্থী নারীর সঙ্গে থাকা ছোট শিশু এবং অপরাধের সঙ্গে জড়িত শিশুরা কোর্ট বারান্দায় কষ্ট করে দাঁড়িয়ে থাকে। স্ত্রী তার স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। তাদের বিরোধ মেটানোর জন্য তারা একত্রে বসে কাউন্সিলিং করে মিমাংসা করতে পারেন। সে জন্য গণপূর্তের সহায়তায় বসার জায়গা করে দিয়েছি। স্বামী-স্ত্রী একত্রে বসে কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে তাদের বিরোধ মিমাংসা করতে পারবেন।
উদ্বোধনের সময় উপস্থিত ছিলেন, চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুল আলম, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শরিয়ত উল্লাহ, শেখ আনিজ্জুমান, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অভিজিৎ সরকার, আফিফা আফরিন আঁখিসহ বিচারকবৃন্দ।
এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, পাবলিক প্রসিকিউটর আলহাজ্ব মো. নুরুল আমীন, বিশেষ পিপি রনজুয়ারা সিপু, বরগুনা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মাহবুবুল বারি আসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান প্রমুখ।
বিডি প্রতিদিন/জামশেদ