পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ও তিন চিকিৎসকসহ নয় জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক মো. শরীফ শেখ বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার মামলাটি দায়ের করেন। তবে শনিবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দুদক।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন, পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ও পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. মিজানুর রহমান, হাসপাতালটির সিনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনী) ডা. ফারহানা রহমান, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. নিজাম উদ্দিন, জুনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন) ডা. সুরঞ্জিত কুমার সাহা, হাসপাতালটির স্টোর কিপার আল আমীন গাজী, সাউথ বাংলা কর্পোরেশনের প্রোপ্রাইটর এস এম সামসুল আরেফিন, উইন্ড্র বিডি এর প্রোপ্রাইটর মো. হানিফুল ইসলাম, আনহা মেডিকের টেকনোলজির প্রোপ্রাইটর মো. জহিরুল ইসলাম এবং মেডি স্কয়ার এর স্বত্ত্বাধিকারী মো. রাশেদুজ্জামান ওরফে এরশাদ।
অভিযুক্তদের মধ্যে ডা. ফারহানা হাসপাতালটির ঔষধ ও সার্জিক্যাল পণ্য ক্রয় সংক্রান্ত কমিটির সভাপতি, ডা. নিজাম উদ্দিন সদস্য সচিব এবং ডা. সুরঞ্জিত সদস্য ছিলেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের ঔষধ ও এমএসআর পণ্য ক্রয়ের জন্য চারটি সরবরাহ প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয় এবং পণ্যগুলো গত বছরের ২৮ এপ্রিলের মধ্যে সরবরাহ করার কথা ছিল। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো হাসপাতালে পণ্যগুলো সরবরাহ না করলেও, সার্ভে কমিটি কাগজে সেগুলো পেয়েছে উল্লেখ করে। এমনকি শুধুমাত্র কাগজে সেগুলো স্টোর রুমে সংরক্ষণ দেখানো হয় এবং স্টোর কিপার আল আমীন সেগুলো বুঝে নিয়ে স্বাক্ষরও করেন। পাশাপাশি হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্বে থাকা ডা. মিজানুর রহমান চারটি প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে এক কোটি ৭৮ লক্ষ ২৫ হাজার ৩৭ টাকা পরিশোধ করেন।
এসব অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২৭ জানুয়ারি দুদক হাসপাতালে এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করে এর সত্যতা পায়। এরপর গত ২ ফেব্রুয়ারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘাটতি থাকা ঔষধগুলো হাসপাতালের স্টোর রুমে ঢোকানোর সময় দুদক সেগুলো জব্দ করে।
বিডি প্রতিদিন/জামশেদ