চার কর্মীকে লাঞ্ছিতের প্রতিবাদে ও ৬ দফা দাবিতে কর্মবিরতি পালন করেছেন ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) পরিচালিত মেট্রোরেলের কর্মীরা। কর্মীদের এই কর্মবিরতির মধ্যেও চলেছে মেট্রোরেল। পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় গতকাল সকাল সাড়ে ৯টায় কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে ফের কাজে ফেরেন মেট্রোরেলের কর্মীরা। এদিকে ডিএমটিসিএলের চার কর্মীকে শারীরিক লাঞ্ছিতের ঘটনায় এমআরটি পুলিশের এক এসআইসহ দুইজনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ। গতকাল মেট্রোরেলের সচিবালয় স্টেশনে গণমাধ্যমকর্মীদের এ তথ্য জানিয়েছেন মেট্রোরেলের এমডি ফারুক আহমেদ। তিনি জানান, ডিএমটিসিএলের চার কর্মীকে লাঞ্ছিতের ঘটনায় ইতোমধ্যে এমআরটি পুলিশের এক এসআইসহ দুইজনকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
সেই সঙ্গে একটি তদন্ত কমিটিও করা হয়েছে। মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের ত্বরিত পদক্ষেপে বর্তমানে নির্বিঘ্নে মেট্রোরেল চলাচল করছে।
এর আগে গতকাল সকাল থেকে কর্মবিরতি পালন করেন মেট্রোরেল কর্মীরা। এতে একক যাত্রার টিকিট বিক্রিসহ যাত্রী পরিবহনের অন্যান্য সেবা বন্ধ ছিল। তবে প্রতিদিনের মতোই যথাসময়ে মেট্রোরেল চলাচল করেছে। যাদের র্যাপিড পাস বা এমআরটি কার্ডধারীরা স্বাভাবিকভাবেই চলাচল করেছেন। তবে একক যাত্রার কার্ড বিক্রি বন্ধ থাকায় অন্যান্য যাত্রীদের বিনা টিকিটেই চলাচল করতে দেখা যায়।
এদিকে ডিএমটিসিএল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১৬ মার্চ বিকাল সোয়া ৫টায় তাদের চার কর্মীকে মৌখিক ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন এমআরটি পুলিশ সদস্যরা। ওই দিন দুজন নারী কোনো প্রকার পরিচয়পত্র না দেখিয়ে সিভিল ড্রেসে বিনা টিকিটে ট্রেনে ভ্রমণ করে এসে ইএফও অফিসের পাশে অবস্থিত সুইং গেট ব্যবহার করে পেইড জোন থেকে বের হতে চান। যেহেতু তারা নির্ধারিত ইউনিফর্ম পরিহিত ছিলেন না এবং তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি, দায়িত্বপ্রাপ্ত সিআরএ নিয়ম অনুযায়ী তাদের সেখান থেকে পিজি গেট ব্যতীত সুইং গেট দিয়ে বের হওয়ার কারণ জানতে চান। তবে সংশ্লিষ্ট পুলিশের কর্মকর্তারা এতে উত্তেজিত হয়ে তর্কে জড়ান এবং একপর্যায়ে এমআরটি পুলিশের কন্ট্রোল রুমে চলে যান।
পরে ঠিক একইভাবে দুইজন এপিবিএন সদস্য সুইং গেট ব্যবহার করে সেটি না লাগিয়ে চলে যান। এমনটি করার কারণ তাদের কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা পূর্বের ঘটনার জের ধরে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। কিছুক্ষণ পরে কন্ট্রোল রুম থেকে আরও কয়েকজন পুলিশ এসে দায়িত্বে থাকা সিআরএর সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং বন্দুক দিয়ে আঘাত করেন। এ ছাড়া কর্মরত আরেকজন টিএমওর শার্টের কলার ধরে জোরপূর্বক এমআরটি পুলিশ বক্সে নিয়ে মারধর করে গুলির জন্য বন্দুক তাক করেন। উপস্থিত স্টেশন স্টাফ ও যাত্রীরা বিষয়টি অনুধাবন করে এমআরটি পুলিশের হাত থেকে কর্মরত টিএমও-কে পুলিশের কাছ থেকে বাঁচিয়ে নিয়ে আসে।