বাজারে নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। এর থেকে মানুষ কিছুটা পরিত্রাণের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য কিনতে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর ওপেন ট্রাকসেলের লাইনে দাঁড়াচ্ছে। মানুষের লাইনের দীর্ঘ সারি দেখে বোঝা যায় সাধারণ মানুষ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে কতটা বেকায়দায় রয়েছে। ভোরেই রংপুর নগরীর কয়েকটি মোড়ে ট্রাকসেলে সাশ্রয়ী দামে পণ্যের আশায় হাজার হাজার নিম্ন আয়ের মানুষের ভিড় শুরু হয়। ভিড় সামাল দিতে না পেরে টিসিবির ট্রাক পালিয়ে গেছে। যিনি টিসিবির পণ্য পান তার মুখে কিছুটা হাসি থাকলেও যারা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন তাদের দীর্ঘশ্বাস দেখার কেউ নেই।
রংপুর টিসিবি সূত্রে জানা গেছে, রংপুর সিটি করপোরেশনে ৩৩টি ওয়ার্ড রয়েছে। লোকসংখ্যা ১০ লাখের ওপর। ২০৫ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এ সিটি করপোরেশনে ৬৬ পয়েন্টে টিসিবির পণ্য দেওয়ার কথা থাকলেও প্রতিদিন বাইরোটেশনে ১০ পয়েন্টে ২৫ ট্রাকে পণ্য বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি ট্রাকে ৪০০ জনকে পণ্য দেওয়া হচ্ছে। সে হিসেবে প্রতিদিন ৪ হাজার মানুষ সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য কিনতে পারছে। তবে প্রতিদিন এসব পণ্য কিনতে লাইনে দাঁড়াচ্ছে ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ। ফলে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছে অধিকাংশই। গত এক সপ্তাহে টিসিবির পণ্য কিনতে গিয়ে নগরীর ইন্দারার মোড়, গুড়াতিপাড়াসহ কয়েকটি স্থানে হাতাহাতিও ঘটেছে। একপর্যায়ে টিসিবির লোকজন সেখান থেকে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন।
নগরীর শাহীপাড়ার মজনু মিয়া বলেন, ‘বৃহস্পতিবার লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম। ২ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পরেও পণ্য পাইনি। খালি হাতে ফিরে এসেছি।’
প্রায় একই ধরনের কথা বলেছেন লায়লা বেগম, মনিরা বেগমসহ কয়েকজন। তারা ইন্দারার মোড়ে লাইনে দাঁড়িয়েও পণ্য কিনতে পারেননি। মানুষের ভিড়ে একপর্যায়ে খালি হাতে ফিরে অসতে বাধ্য হয়েছেন।
গুড়াতিপাড়ার ইমরোজ হোসেন সকালবেলা লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টাদেড়েক পর কাক্সিক্ষত পণ্য পেয়েছেন। তার মুখে কিছুটা তৃপ্তির হাসি দেখা গেছে।
রংপুর টিসিবির অফিসপ্রধান সহকারী পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘নগরীতে অটোরিকশায় যাতায়াতের সুবিধা থাকায় মানুষজন এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গিয়ে টিসিবির পণ্যের জন্য লাইন দিচ্ছেন। এ কারণে ভিড় বেশি। ওপেন সেল হওয়ার কারণেও লোকজনের বেশি সমাগম হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘কার্ডের মাধ্যমে এ মাসে টিসিবির পণ্য দেওয়ার কথা রয়েছে। তখন ভিড় কিছুটা কমবে।’