ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শেখ পরিবারের নামে স্থাপনাসমূহ পরিবর্তন করে নতুন নামকরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশের চতুর্থ প্রধানমন্ত্রী শাহ আজিজুর রহমানের নামে নামকরণ করা হয়। যিনি একজন চিহ্নিত স্বাধীনতাবিরোধী হিসেবে সবার কাছে পরিচিত। এনিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে চলছে নানা সমালোচনা। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়ন সংসদ এক বিবৃতিতে নিন্দা প্রতিবাদ জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন অনেকে। গত বুধবার হলের নাম পরিবর্তনের পর থেকো শুরু হয় সমালোচনা ও প্রতিবাদ। সমালোচকদের দাবি শাহ আজিজুর রহমান একজন চিহ্নিত স্বাধীনতাবিরোধী। তাই তার নামে হলের নামকরণ হতে পারে না।
সংবাদ বিবৃতিতে ছাত্রইউনিয়নের নেতারা বলেন, শাহ আজিজুর রহমানের মতো একজন চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীর নামে আবাসিক হলের নামকরণ জাতির জন্য এক কলঙ্কজনক সিদ্ধান্ত। একই সঙ্গে জুলাই গণ অভ্যুত্থানের চেতনা পরিপন্থিও। আওয়ামী ফ্যাসিবাদের হাতে লুট হয়ে যাওয়া মুক্তিযুদ্ধের সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের বৈষম্যহীন দেশ গড়ার শপথই ছিল জুলাই অভ্যুত্থানের স্পিরিট। সেখানে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী শাহ আজিজুর রহমানের নামে আবাসিক হলের নামকরণের মধ্য দিয়ে ইবি প্রশাসন মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে বলে আমরা মনে করি।
প্রসঙ্গত, সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বঙ্গবন্ধু হলের নাম পরিবর্তন করে ‘শাহ আজিজুর রহমান’ হল, শেখ রাসেল হলের পরিবর্তে ‘শহীদ আনাছ’ হল, ‘বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব’ হলের নাম পরিবর্তন করে ‘উম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দিকা’ হল, শেখ হাসিনা হলের নাম পরিবর্তন করে ‘জুলাই-৩৬’ হল রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ‘ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান ভবন’-এর পরিবর্তে নতুন নামকরণ করা হয়েছে ‘ইবনে সিনা বিজ্ঞান ভবন’।