আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন উপলক্ষে ‘অদম্য নারী, শক্তিতে অজেয়’ স্লোগানে দিনব্যাপী বইমেলা আয়োজন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল। শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের মাঠে এ বইমেলা ও আলোচনা সভার আয়োজন করে সংগঠনটি।
আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান এবং সালাউদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাজিমুজ্জামান শিপনসহ ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতৃবৃন্দ।
সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, নারীদের সমতা ও অধিকার তখনই নিশ্চিত হবে, যখন নারী-পুরুষ উভয়ে পাশাপাশি কাজ করবে এবং একই মেধা ও কর্মপ্রচেষ্টা দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। কিন্তু আমরা শুধু নারী দিবসের দিনটিতে সভা করছি, র্যালি করছি, বিভিন্ন অনুষ্ঠান করছি, বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছি, কিন্তু পরবর্তী সময়ে আমরা নারীদের আর মনে রাখছি না। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অনেক ছাত্রী অংশগ্রহণ করেছিল, কিন্তু ৫ আগস্টের পরে তাদের আর কোথাও দেখা যাচ্ছে না। আন্দোলন-সংগ্রাম করে ফ্যাসিস্ট সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করার পরেও কেন তাদেরকে মূল্যায়ন করা হচ্ছে না?
তিনি বলেন, শিক্ষাজীবনে যারা ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত ছিল, তারা বৃহৎ রাজনীতিতে জায়গা করে নিতে পারছে না। এখন নারীরা যদি নারী ক্ষমতায়নের বিষয়ে কথা না বলে, তাহলে নারী-পুরুষের সমতার যে কথা বলা হচ্ছে, তা কখনোই বাস্তবায়িত হবে না। দেশের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হলে রাজনীতির মাধ্যমেই তা সম্ভব। নির্বাচনকে সামনে রেখে সারাদেশে নারীদের কীভাবে মূল্যায়ন করা যায়, সে বিষয়ে চিন্তা করা দরকার। এ সময় তিনি সংসদে নারীদের আসন সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানান।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নারীদের ভূমিকা বিশ্বস্বীকৃত হয়েছে। নিহত শহীদদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল নারী ও শিশু। নারীরাই সব সময় সকল গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে। আমরা দেখেছি, আমাদের এই অর্জিত বিজয়ে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ রয়েছে।
সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিএনপির দেওয়া ৩১ দফার অন্যতম প্রতিশ্রুতি হলো নারীদের সাংবিধানিক, সংসদীয়, প্রাতিষ্ঠানিক এবং আইনি ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা। নারীদের ক্ষমতায়নের ভার পূর্বের তুলনায় আরও বৃদ্ধি পাবে। আমরা একটি সাংবাদিক সংস্থা কমিশনের মাধ্যমে আমাদের এবং অন্যান্য দলের প্রস্তাবনার আলোকে সংসদে নারীদের সংখ্যা বাড়িয়ে তাদের ক্ষমতায়নের ভূমিকা নিশ্চিত করবো। তিনি বলেন, আমরা নারী ক্ষমতায়নের দিকে যত এগিয়ে যাবো, বিশ্বে আমাদের দেশ ততো এগিয়ে যাবে।
সভায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত নাফিসা হোসেনের মামা উপস্থিত ছিলেন। ভাগ্নির হত্যার বিচার চেয়ে তিনি বলেন, এভাবে এখানে আসতে হবে ভাবিনি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত আমার ভাগ্নি নাফিসা একজন নারী শহীদ। সাভারে ৫ আগস্ট পুলিশের গুলিতে সে শহীদ হয়। আমার ভাগ্নিকে যারা গুলি করে হত্যা করেছে, তাদের যেন বিচার হয়।
এ সময় বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেফতার হয়ে নির্যাতনের শিকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কোবরা বলেন, নারী-পুরুষ সমান অধিকারের অর্থ এই নয় যে, নারীকে পুরুষের মতো সিগারেট খাওয়ার অধিকার দিতে হবে। ন্যায্যতার ভিত্তিতে নারীর সকল অধিকার নিশ্চিত করাই নারী অধিকারের মূল বিষয়।
আলোচনা সভা শেষে জুলাই অভ্যুত্থানে আহত নারী ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের এবং বিগত সরকারের সময়ে নিপীড়নের শিকার নারীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।
বিডিপ্রতিদিন/কবিরুল