হামজা দেওয়ান চৌধুরী। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা এ ফুটবলার ভারতীয়দের আরামের ঘুম নষ্ট করে দিয়েছেন। দেশটির ফুটবল সমর্থকরা চিন্তিত। হামজাকে আটকানো যাবে তো? ভারতীয় ফুটবলাররা কোচ মানোলো মারকুয়েজের প্রেসক্রিপশন মেনে অনুশীলন করে চলেছেন। হামজাকে নিয়ে পরিকল্পনায় ব্যস্ত সবাই। লিস্টার সিটির জার্সিতে এফএ কাপ জয় করা এ ফুটবলার শিলংয়ের ঠান্ডা আবহাওয়ায় উত্তাপ অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছেন।
কেবল হামজা চৌধুরীই নন, আলোচনায় আছেন সুনীল ছেত্রীও। ফুটবলের আঙিনায় নতুন স্বপ্নের জাল বুনছেন জামাল ভূঁইয়ারা। দেশের ফুটবলকে বিজয়ের পথে নিয়ে যেতে চান তারা। অন্যদিকে সুনীল ছেত্রীকে সঙ্গে নিয়ে নিজেদের ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বের করে আনতে চায় ভারত। হামজা ও সুনীলের লড়াইটা অবশ্য ভিন্ন। বাংলাদেশ দলে হামজা একেবারেই নতুন। এখানে জামাল-তপুদের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে লড়াই করাটাই তার বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে সুনীল ছেত্রী দুই দশকেরও বেশি সময় খেলছেন ভারতীয় দলে। গত বছর অবসরে গেলেও বাংলাদেশ ম্যাচের আগে তাকে দলে ফেরায় ভারত। কারণ কী? সুনীলের অভিজ্ঞতাতেই হামজাদের কুপোকাত করতে চায় তারা। দলটির ফুটবলার সন্দেশ বললেন, ‘সুনীলকে পেয়ে আমরা অনুপ্রাণিত। কেবল বাংলাদেশের জন্য নয়, যে কোনো প্রতিপক্ষের জন্যই সুনীল এক আতঙ্কের নাম।’ তাহলে হামজাও কি ভারতের জন্য আতঙ্ক? ভারতীয়রা এটা স্বীকার করছে না সরাসরি। যেমন ভারতের কোচ মানোলো মারকুয়েজ বলছেন, ‘আমরা জানি লিস্টার সিটিতে খেলা হামজা চৌধুরীকে। কিন্তু মাঠে তার প্রভাব কতটা হবে বলা কঠিন।’
বাংলাদেশের অধিনায়ক গতকাল ম্যাচপূর্ব আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে বললেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি অনেক আলাদা। সবাই চাইছে জয়। আমরাও তাই চাই। এ চাওয়ার চাপ তো আছেই। তবে আমরা নিজেদের ঠান্ডা রেখেই ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা নিঃসন্দেহে আগের চেয়ে অনেক শক্তিশালী। বিশেষ করে হামজা আমাদের দলে যোগ হওয়ায় সবাই আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী মনে করছে।’ আর কোচ হাভিয়ের কাবরেরা বলছেন, ‘হামজা আমাদের শক্তিশালী করেছে।’ এ শক্তি নিয়েই ভারতের জন্য ম্যাচটা কঠিন করে তুলতে চান তিনি। তিন পয়েন্টের লক্ষ্যেই খেলতে নামবে বাংলাদেশ। তবে নিদেনপক্ষে ড্র চান জামালরা। বাংলাদেশ যেমন হামজায় শক্তি বাড়িয়েছে তেমনি ভারতের শক্তি বেড়েছে সুনীল ছেত্রীতে।
হামজার সামনে দারুণ একটা লক্ষ্য আছে। আজ ভারতের বিপক্ষে জয় উপহার দিতে পারলে তিনি বর্তমান সময়ের সেরা তারকা হয়ে উঠবেন বাংলাদেশে। অন্যদিকে সুনীল ছেত্রীর লক্ষ্যটাও একেবারেই সোজা। বাংলাদেশের বিপক্ষে দারুণ কিছু করে দেখাতে পারলে তার প্রতি আস্থা আরও গভীর হবে ভারতীয়দের। এমনিতেই ভারতে তিনি অনেক বড় তারকা। দর্শকরা বেশিরভাগই তার জার্সি গায়ে জড়িয়ে মাঠে খেলা দেখতে আসে। আজও নিশ্চয়ই তাই আসবে। সুনীলের চ্যালেঞ্জটাও বেশ কঠিন।
আজ মাঝ মাঠেই সম্ভবত মূল লড়াইটা হবে। হামজা-জামালরা মাঝ মাঠের লড়াইয়ে ভারতকে হারিয়ে সফল হতে চাইবেন। অন্যদিকে ভারত হয়তো আক্রমণভাগের ওপরই আস্থা রাখছে বেশি করে! ভারতের স্প্যানিশ কোচ মানোলো অবশ্য ম্যাচটাকে বেশ কঠিন মনে করছেন। তিনি বলেছেন, ‘কেবল হামজা চৌধুরীই নয়, বাংলাদেশের আরও বেশ কজন ফুটবলার দারুণ খেলে। আমরা জানি ম্যাচটা বেশ কঠিন হবে।’ কাবরেরাও প্রায়ই একই কথা বলেছেন। ম্যাচটা কঠিন হবে। সেই কঠিন লড়াইয়ে বিজয়ী হওয়ার জন্যই তিনি দলকে প্রস্তুত করে তুলেছেন।
এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের ম্যাচ। এ ম্যাচের গুরুত্ব দুই দলের কাছেই সমান। দুই দলই চায় জয়। এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলতে হলে সি গ্রুপে সেরা হতে হবে। এই গ্রুপের অপর দুটি দল হংকং ও সিঙ্গাপুর। কেবল ভারত বাধা পাড়ি দিলেই হবে না। সামনে আছে সিঙ্গাপুর ও হংকং ম্যাচ। তবে হামজা চৌধুরীর সূচনাপর্বটা ভালো হলে সামনের পথ হয়তো সহজ হয়ে যাবে। জামাল ভূঁইয়াদের লক্ষ্য তাই। বিজয়ের পথে ছুটে চলার দৃঢ়তায় এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ!