২৫ মার্চ ভারতের বিপক্ষে সেরা একাদশে কারা খেলবেন তা নিশ্চিত নয়। সৌদি আরবে চলছে হাভিয়ের কাবরেরার কন্ডিশনিং ক্যাম্প। ৩০ জন ফুটবলার অনুশীলনে রয়েছেন। অবশ্য হামজা চৌধুরী ক্যাম্পে নেই। তিনি ১৮ বা ১৯ মার্চ ঢাকায় আসবেন। আরেক প্রবাসী ফুটবলার ফাহেমুদুল ইসলামের গতকালই সৌদিতে ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার কথা। পারফরম্যান্স যাচাই করে ভারতের বিপক্ষে চূড়ান্ত দল হবে। তবে হামজা যে সেরা একাদশে থাকবেন তা নিশ্চিত বলা যায়। চূড়ান্ত দলে তিন গোলরক্ষক হিসেবে মিতুল মারমা, সুজন হোসেন ও মেহেদী হাসান শ্রাবণ থাকবেন। প্রাথমিক স্কোয়াড থেকে আনিসুর রহমান জিকো ও সাকিব আল হাসানকে বাদ দেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে এশিয়ান কাপ ফুটবল বাছাইপর্বে ভারতের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে গোলরক্ষক হিসেবে কাকে দেখা যাবে?
ফুটবল বিশ্লেষকদের ধারণা হামজা যেমন অটো চয়েস তেমনি গোলরক্ষক পজিশনে মিতুল মারমার খেলাটা নিশ্চিত বলা যায়। সুজন ও শ্রাবণও ভালো মানের গোলরক্ষক। বিশেষ করে সুজনের দল মোহামেডান পেশাদার লিগে পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে রয়েছে। শ্রাবণেরও গুরুত্ব রয়েছে। একসময় বসুন্ধরা কিংসে অপরিহার্য ছিলেন জিকো। এখন সে অবস্থা নেই। শ্রাবণকেই ম্যাচে দেখা যাচ্ছে।
তারপরও এ ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকবেন মিতুলই। আর তা পারফরম্যান্স ঘিরে। কোচ কাবরেরা তো লিগের পারফরম্যান্স দেখে ৩০ জন ফুটবলার বেছে নিয়েছেন। যদিও এ নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। তবে মিতুল লিগে যে পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছেন এক কথায় অসাধারণ বলা যায়। যদিও তার দল আবাহনী পয়েন্ট টেবিলে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। কিন্তু মিতুলের খেলা আলাদাভাবে নজর কেড়েছে। ১০ ম্যাচে মিতুল মাত্র দুটি গোল খেয়েছেন। একটি প্রথম লেগে যে ম্যাচে মোহামেডানের কাছে হার। আরেকটি দ্বিতীয় লেগে ইয়ংমেন্স ফকিরেরপুলের বিপক্ষে।
লিগে আবাহনী এখন পর্যন্ত সাত পয়েন্ট নষ্ট করেছে। ম্যাচ হেরেছে মাত্র ১টি। ১৯৭৭ সালে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়া আবাহনীর অধিনায়ক আশরাফ বলেন, লোকাল ফুটবলারে গড়া দলের পারফরম্যান্সে আমি মুগ্ধ। তবে এখানে মূল কৃতিত্ব দিতে হয় মিতুলকে । ওর নৈপুণ্যে আবাহনী শক্ত অবস্থানে আছে। শুধু আশরাফ নয়, মিতুলের পারফরম্যান্সে জাতীয় দলের কোচিং স্টাফরা খুশি। বিশেষ করে হেড কোচ কাবরেরা ভরসার প্রতীক নাকি মিতুলই। সে ক্ষেত্রে ২৫ মার্চ হামজার সতীর্থ হতে যাচ্ছেন মিতুলই।
গোলরক্ষকের নাম বললে এখনো শহিদুর রহমান সান্টুর নামই সবার আগে উচ্চারিত হয়। তাকেই বাংলাদেশের সেরা গোলরক্ষক বলা হয়। মোতালেব, মহসিন, কানন, আমিনুল, বিপ্লবরাও আস্থার পরিচয় দিয়েছেন। শহিদুর রহমান সোহেল ও জিকোও আলোড়ন তুলেছেন। দৃষ্টি এখন মিতুলের দিকে। দেখা যাক, ২৫ মার্চ মিতুল আস্থার পরিচয় দিতে পারবেন কি না?