প্রায় ১২ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সাত কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম ও তার স্ত্রী ফিরোজা পারভীনের বিরুদ্ধে দুইটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংস্থাটির মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ও পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক এমপি শ ম রেজাউল করিম ক্ষমতার অপব্যবহার করে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে সঙ্গতিবিহীন আট কোটি ৮৬ লাখ ১১ হাজার টাকা নিজ ভোগদখলে রেখেছেন। এছাড়া, তার নিজ নামে ১২ ব্যাংক হিসাবে ছয় কোটি ৮৪ লাখ টাকার সন্দেহভাজন লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। এ অভিযোগে প্রথম মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অন্যদিকে, দ্বিতীয় মামলায় তার স্ত্রী ফিরোজা পারভীন ও শ ম রেজাউল করিমকে আসামি করা হয়েছে। ওই মামলায় তাদের বিরুদ্ধে পাবলিক সার্ভেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিন কোটি পাঁচ লাখ ৫৫ হাজার টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা, দুদক আইনের ২৭ (১) ধারা ও দণ্ডবিধি ১০৯ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গত সেপ্টেম্বরে শ ম রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনৈতিক কার্যক্রমসহ নানাবিধ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।
সেই অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, শম রেজাউল করিমের নিজ নামে বরিশালের নাজিরপুর, পিরোজপুর এবং ঢাকার বিভিন্ন স্থানে স্থাবর সম্পদ রয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন নামক প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ক্রয় এবং প্রশিক্ষণের নামে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ, একটি গাড়ি, ব্যাংকে জমা টাকা ছাড়াও তার দেশে-বিদেশে বিপুল পরিমাণ সম্পদ রয়েছে।
বিডি প্রতিদিন/কেএ