দুই শিক্ষার্থী ও ফ্রিল্যান্সারের কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করার অভিযোগে বগুড়ায় পুলিশের হাতে রাজশাহীর পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ ছয়জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। গতকাল ভোরে বগুড়ার শেরপুর, ধুনট ও নন্দীগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বিকালে তাদের ধুনট থানার আমলি আদালতে হাজির করা হয়। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এর বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট লোকমান হাকিম তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিকে রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি)-এর পাঁচ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গতকাল বিকালে আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান তাদের সাময়িক বরখাস্ত করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘তারা কোনো অভিযানে যাননি। কাউকে জানিয়েও যাননি। তারা নিজের ইচ্ছায় গিয়েছেন। সেখানে আটক হয়েছেন। সেখানে তাদের নামে মামলা হয়েছে। বিকালে আমি তাদের সাময়িক বরখাস্ত করেছি। এখন তদন্ত হবে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল আলম জানান, গ্রেপ্তার ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বিকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা নগদ, একটি ওয়াকিটকি, একটি হ্যান্ডকাফ ও সাতটি মোবাইল ফোন সেট উদ্ধার করা হয়েছে। বগুড়ার আদালত পুলিশ পরিদর্শক মোসাদ্দেক হোসেন জানান, গতকাল বিকালে গ্রেপ্তারদের ধুনট থানার আমলি আদালতে হাজির করা হয়। এরপর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এর বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট লোকমান হাকিম তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। জানা যায়, ধুনট উপজেলার দিগলকান্দি গ্রামের দুই শিক্ষার্থী ও ফ্রিল্যান্সার কাজে জড়িত মো. রাব্বি (১৯) ও মো. জাহাঙ্গীরকে (২৪) অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)-এর গোয়েন্দা শাখার কয়েকজন সদস্য। রবিবার রাত সাড়ে ১২টায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয় দিয়ে একদল ব্যক্তি তাদের বাড়ি যান। তুলে নিয়ে যাওয়া হয় দুই ফ্রিল্যান্সারকে। এরপর শেরপুর উপজেলার মির্জাপুরে নিয়ে পরিবারের কাছে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। না দিলে হত্যা করে গুম করার হুমকি দেওয়া হয়। ওই রাতেই জাহাঙ্গীরের পরিবার ২ লাখ টাকা দিলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে রাব্বির পরিবার বিকাশের মাধ্যমে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা পাঠালে তিনিও ছাড়া পান। পরে রাব্বি ও জাহাঙ্গীরের পরিবার বগুড়া জেলা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে পরিবারের অন্য সদস্যরা মোটরসাইকেল নিয়ে মুক্তিপণ আদায়কারীদের গাড়ির পিছু নেন। মুক্তিপণ আদায়কারীরা শেরপুর উপজেলা ছেড়ে রাজশাহী যাওয়ার পথে নন্দীগ্রাম উপজেলার কুন্দারহাট হাইওয়ে পুলিশের টহলদলের কাছে মুক্তিপণের ঘটনাটি খুলে বলেন। কুন্দারহাট হাইওয়ে পুলিশের বিষয়টি সন্দেহ হলে তাদের পিছু নেয়। মুক্তিপণ আদায়কারীদের বহন করা হাইয়েস গাড়িটি ইউটার্ন নিয়ে জেলার শাজাহানপুর উপজেলার বীরগ্রাম পৌঁছালে কুন্দারহাট হাইওয়ে থানা পুলিশ তাদের আটক করে। আটকের পরই জানতে পারে পাঁচজন আসল পুলিশ ও একজন সিভিল চালক। আটকরা হলেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিবিতে কর্মরত এসআই শাহীন মোহাম্মদ অনু ইসলাম, কনস্টেবল রিপন মিয়া, আবুল কালাম আজাদ, মো. মাহবুব আলম, মো. বাশির আলী এবং সিভিল ড্রাইভার মো. মেহেদী হাসান।
এ ঘটনায় ধুনট থানায় রাব্বির বাবা সেলিম শেখ বাদী হয়ে মামলা করেছেন।