নেত্রকোনার আরামবাগে একটি বসতঘরে মিলেছে মাজেদা বেগম নামে ৬০ বছর বয়সি এক বৃদ্ধার লাশ। গতকাল বিকালে ঢাকা থেকে এসে ফারিয়া সুলতানা ইতি দরজা চাপানো ঘরে ঢুকে মায়ের লাশ দেখতে পেয়ে থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করে। ধারণা করা হচ্ছে, চুরি করতে এসেই শ্বাসরোধে বৃদ্ধাকে হত্যা করা হয়। নিহতের কানের দুল ও মোবাইল ফোন নিয়ে গেছে চোরেরা। পুলিশ, স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শহীদ মিনারের পেছনে শহরের আরামবাগ এলাকায় পুরোনো তথ্য অফিসের বাসাটিতে মৃত আরজান আলীর স্ত্রী মাজেদা বেগম একাই থাকতেন। তাদের তিন মেয়ে ঢাকাসহ নিজ নিজ স্বামীর বাড়ি থাকেন। ঈদের ছুটিতে ছোট মেয়ে ফারিয়া সুলতানা ইতি ও স্বামী মো. আশরাফুল ইসলাম ছেলেমেয়েদের নিয়ে নেত্রকোনায় পৌঁছেন গতকাল বিকাল সাড়ে ৪টায়। এর আগে সকাল থেকে মায়ের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করতে পারছিলেন না। কিছুক্ষণ মাকে ডাকাডাকি করে দেখেন ঘরের বাইরে থেকে দরজা চাপানো। ঘরে ঢুকে বিছানায় মায়ের গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থা দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে নেত্রকোনা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এদিকে নিহতের কানের দুল ও মোবাইল ফোন খোয়া গেছে। আলমারির দরজাও খোলা পান তারা। সবার ধারণা, চুরি করতেই হত্যা করা হয় মাজেদা বেগমকে।
নাতি আবিদ বলেন, নানু গোসলে বা কাজে গেলেই পাশের একটি গ্যারেজের কয়েকটা ছেলে ঘরের ভিতর ঢুকতে চাইত। এরা চুরির জন্য প্রায় সময় উৎপাত করত। নানুর পেনশনের টাকা তুলে আনলেও ঘুরঘুর করত। নেত্রকোনা মডেল থানার ওসি মো. কাজী শাহনেওয়াজ জানান, লাশের নাকে ফেনা ছিল। মুখের ওপর ছিল গামছা। প্যাঁচানো পাইনি। এখন বোঝা যাচ্ছে না। তবে তারা বলছে, মোবাইল ও কানের দুল খোয়া গেছে। তদন্ত করে দেখছি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।