রাজধানীর খিলক্ষেতে ধর্ষণের শিকার হওয়া ছয় বছরের শিশুটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) চিকিৎসকরা বলছেন, শিশুটির অবস্থা আগের তুলনায় অনেকটা ভালো। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে সে। আলামত ফরেনসিকের জন্য পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে গণপিটুনি থেকে বাঁচিয়ে আসামিকে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া শিশুটিকে ধর্ষণের অভিযোগে গণপিটুনিতে ধর্ষক কিশোর রকিবুল হাসান ওরফে জান মিয়া মারা যাওয়ার খবর প্রচার হলেও সে বর্তমানে ঢামেকে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, ধর্ষণকাণ্ডের ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামি আমাদের হেফাজতে আছে। আবার পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায়ও মামলা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ দেখে সজীব এবং ইউসুফ নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ছয় বছরের মেয়ে শিশুটি পাশেই তার নানার বাড়িতে গিয়েছিল। ওই বাসাতেই থাকে অভিযুক্ত গ্রেপ্তার জান মিয়া। তার ছোট বোন এবং ধর্ষিত শিশুটি সহপাঠী। খাবারের লোভ দেখিয়ে সে ওই শিশুটিকে সিঁড়ির নিচে নিয়ে ধর্ষণ করে। গুরুতর অবস্থায় ওই শিশুকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখান থেকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ঢামেকের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে। ওই ঘটনায় বাদী হয়ে খিলক্ষেত থানায় মামলা করেছেন শিশুটির বাবা। তিনি পেশায় একজন ট্রাকচালক।
এদিকে ধর্ষণের অভিযোগে গণপিটুনির পর কিশোরকে প্রথমে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে ঢামেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
খিলক্ষেত থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোবারক হোসেন বলেন, অভিযুক্ত কিশোরের মাথায় গুরুতর আঘাত রয়েছে। তার অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। ওই কিশোরের বয়স আনুমানিক ১৬। সে স্যানিটারি মালামাল বিক্রির একটি দোকানে কাজ করে। শুরুর দিকে সে মারা গেছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে স্থানীয় জনতা আসামি ছিনিয়ে নিতে পুলিশের টিমের ওপর চড়াও হয়েছিল। থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আশিকুর রহমান গুরুতর আহত হন। তারা থানার গাড়িতেও হামলা চালিয়েছে।
এদিকে ঢামেক হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) সমন্বয়ক ডা. সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, শিশুটির শরীরে প্রাথমিকভাবে নির্যাতনের আলামত পাওয়া গেছে। এ শিশু ছাড়াও পল্লবীর দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে ভর্তি নারীরও ফরেনসিক করানো হয়েছে। আলামতগুলো পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।